img

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশিত :  ১৭:৪৯, ২৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রোববার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে এ কম্পন টের পাওয়া যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা কম্পন অনুভবের কথা জানিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকা। কম্পনটি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনুভূত হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১২ জুন সিলেট-ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই কম্পন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। একই মাসের ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। যদিও এর কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের বাইরে, তারপরও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যেই মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস না হলেও এগুলো ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।


জাতীয় এর আরও খবর

img

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা, ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না টিআইএন

প্রকাশিত :  ১৭:২৭, ২৯ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাস হয়েছে। বিলটি অনুমোদনের সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা নির্ধারণ এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহার উল্লেখযোগ্য।

আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থবিল-২০২৬ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুপারিশ অনুযায়ী কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া অর্থবিল অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত বাজেটে এই সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে আগের মতো টিআইএন ছাড়াই নতুন ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাটের বণ্টননামা, দলিল নিবন্ধন এবং নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বিধানও বাতিল করা হয়েছে।


অর্থবিলে যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনসমূহ:

জমি নিবন্ধনের বিতর্কিত বিধান প্রত্যাহার
জমির প্রকৃত মূল্য ও মৌজা মূল্যের পার্থক্য নিরসনে প্রস্তাবিত বিশেষ বিধানটি সমালোচনার মুখে অর্থবিল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

কমানো হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর 
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে ভ্যাট কমানো
অনলাইন ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সার্চ ইঞ্জিনে প্রচারিত বিজ্ঞাপনের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায় নতুন ভ্যাট ও কর কাঠামো
স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও হীরার অলংকারের জন্য নতুন ভ্যাট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব অলংকার কেনার ক্ষেত্রে উৎসে ৫০ পয়সা হারে কর কাটার বিধান যুক্ত হয়েছে।

মাছ ও টেলিযোগাযোগ খাতে ভ্যাট অব্যাহতি
মাছ সরবরাহের জোগানদার পর্যায় এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার রাজস্ব ভাগের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

দেশীয় শিল্পে শুল্ক ও কর ছাড়
চিংড়ি, ওষুধ, বৈদ্যুতিক তার, পিভিসি ও পিইটি রেজিন, পরিশোধিত তামা এবং অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জামসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ও কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কম লভ্যাংশ বিতরণে অতিরিক্ত কর
তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর-পরবর্তী নিট মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ বিতরণ করলে ঘাটতি অংশের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। তবে এ বিধান ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক
নির্ধারিত মূলধন বা বার্ষিক বিক্রয় সীমা অতিক্রমকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিসংঘের জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ আরও সিদ্ধান্ত

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ, মার্চেন্ট হিসাব এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিদেশ থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ভ্যাট আদায়ের দায়িত্ব ব্যাংক ও অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া হয়েছে।
প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে একবার রিটার্ন দাখিলের বিধান করা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিমা কোম্পানির জন্য আলাদা সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
যৌথ উন্নয়ন চুক্তির আওতায় জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট, নগদ অর্থ বা অন্য সুবিধা পেলে তা মূলধনি প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য করে কর আরোপের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর