img

এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা

প্রকাশিত :  ১১:১৭, ২৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২০, ২৮ জুন ২০২৬

এ বছরই আমি দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর দেশের বাইরে অবস্থান করার পর বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র ও আইনি বাধা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরেই দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

নির্বাসিত জীবনে থাকা শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেছেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমার এই সংগ্রাম।”

তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না জানিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ট্র্যাজেডি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মতো কঠিন সময় পার করেছেন। প্রতিবারই জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং এবারও সব বাধা অতিক্রম করে তিনি তার মাতৃভূমিতে ফিরে আসবেন।

দলটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি ও মানুষের ইতিহাস এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। ৭৭ বছরের ইতিহাসে দলটি বারবার কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বাংলাদেশবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের একটি অংশকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতা পরিবর্তন করেছে। কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি।

দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও হাজারো মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরুত্থান কোনো সরকারের দয়ার ওপর নির্ভর করে না। তিনি দাবি করেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলটির সমর্থনে মিছিল করছেন, যা আওয়ামী লীগের পুনর্জাগরণের স্পষ্ট লক্ষণ।

শেখ হাসিনা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মূল ভিত্তি—জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর আঘাত হানা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান নিষিদ্ধ এবং সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টার অংশ।

বিএনপি বা অন্য কোনো শক্তির সঙ্গে গোপন সমঝোতার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও রাজনৈতিক দয়া চায় না। গণতন্ত্র এবং জনগণের ভোটাধিকার কোনো গোপন দর-কষাকষির বিষয় নয়; এগুলো সাংবিধানিক অধিকার।”

ভারতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে। তিনি জানান, বাবার সমাধি এবং প্রিয় দেশবাসীর কথা ভেবে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত অস্থিরতায় পার করেন। তিনি বলেন, “আমি শেষ দিন পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণ আবারও গণতন্ত্র ফিরে পাবে এবং আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতেই ঘুরে দাঁড়াবে।”


জাতীয় এর আরও খবর

img

কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প

প্রকাশিত :  ১৭:৪৯, ২৮ জুন ২০২৬

কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রোববার রাতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে এ কম্পন টের পাওয়া যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৪। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কক্সবাজার-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জেলা এবং দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হালকা কম্পন অনুভবের কথা জানিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুন রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর রূপগঞ্জ-সংলগ্ন এলাকা। কম্পনটি ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় অনুভূত হলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ১২ জুন সিলেট-ভারত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ৪ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ওই কম্পন দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। একই মাসের ৭ জুন ভুটানের পুনাখা অঞ্চলে উৎপন্ন ৫ দশমিক ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়। যদিও এর কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের বাইরে, তারপরও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর প্রভাব পড়ে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় দেশটি ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনের কাছাকাছি হওয়ায় এসব এলাকায় মাঝেমধ্যেই মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পগুলো বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বাভাস না হলেও এগুলো ভূগর্ভস্থ ফল্টলাইনের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।


জাতীয় এর আরও খবর