img

ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় লাফ, কচুরিপানায় ৩০ কিমি ভাসার পর উদ্ধার

প্রকাশিত :  ১৩:৪২, ২৬ জুলাই ২০২৬

ফেরি থেকে মাঝপদ্মায় লাফ, কচুরিপানায় ৩০ কিমি ভাসার পর উদ্ধার

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হওয়া মোসা. লাইজু (৩৯) নামে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কবিরপুর চর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কচুরিপানা আঁকড়ে ধরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে ভেসে যান তিনি। ফরিদপুরের কবিরপুর চর এলাকায় ভেসে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেনের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌপুলিশ। আজ রোববার তাঁকে পরিবারের কাছে দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলকারী \'কুমিল্লা\' ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে লাফ দেন লাইজু। তিনি ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদ ঝাউচরের বাসিন্দা ফোরকান মিয়ার স্ত্রী।

কুমিল্লা ফেরির মাস্টার আব্দুস সাত্তার জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। মাঝনদীতে একটি লাল বয়া অতিক্রম করার পর ফেরির এক কর্মী তাকে জানান, মোবাইলে কথা বলার পর এক নারী যাত্রী নদীতে লাফ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফেরি থামিয়ে সার্চলাইটের সাহায্যে খোঁজাখুঁজি করা হলেও তাকে তখন পাওয়া যায়নি। ওই নারী ফেরিতে একাই ভ্রমণ করছিলেন।

 


img

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: স্বামী-স্ত্রী-শিশু কেউই বাঁচল না

প্রকাশিত :  ০৯:১৫, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক নবদম্পতি ও তাদের সঙ্গে থাকা আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তিন দিনের ব্যবধানে মারা যান ফাহিমা আক্তার, তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং তাদের ভাগনি হাফসা।

গত ২১ জুলাই রাত ৩টার দিকে ভাড়া বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে।

পরিবারের বরাতে জানা যায়, নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে স্বামী শাহিনকে নিয়ে উত্তর বাড্ডার ভাটারা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। তাদের সঙ্গে ঢাকায় আসে ফাহিমার বড় বোনের আট বছরের মেয়ে হাফসা। বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। পরে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান শাহিন। শুক্রবার মারা যায় শিশু হাফসা। সর্বশেষ শনিবার সন্ধ্যায় ৭০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ফাহিমার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার হাফসাকে দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকালে গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা শেষে একই কবরস্থানে স্বামীর পাশে তাকে দাফন করা হয়।

ফাহিমার বাবা গোলাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বাসায় ওঠার পর থেকেই গ্যাস লিকেজের বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর