img

সুন্দরবনে ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

প্রকাশিত :  ১৩:৪৩, ১৪ জুলাই ২০২৬

সুন্দরবনে ২৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

 দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ত্রাস সৃষ্টি করা ‘ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী’র প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ বনদস্যু অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবনের চরপুটিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় তারা আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেন। মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর মোংলায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানায়। জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।  

কোস্ট গার্ড জানায়, ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বনদস্যুদের নির্মূল করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। টানা অভিযানের কারণে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু চক্রের কর্মকাণ্ড নিষ্ক্রিয় হয়েছে। ফলে অনেকেই আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিচ্ছেন। এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন আত্মসমর্পণ করেন। 

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন- জাহাঙ্গীর শেখ (৪৫), মুজাহিদ গাজী (২৭), বিল্লাল শেখ (৩৫), জাহিদ হাসান (২৮), সুমন ঢালী (৩০), এরশাদ শিকারী (৪২), ওয়াহিদুজ্জামান (৩০), আইয়ুব শেখ (৪২), রাফসান ঢালী (৩০), পারভেজ শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৫), জহুরুল গাজী (৩৮), সিরাজুল তরফদার (৩৮), আমিনুল ইসলাম (৪০), আসাদুল ইসলাম (৪২), বাবুল শেখ (৪৫), শাহজাহান শেখ (৪২) ও হেলাল (৩৮)। তারা খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলার রামপাল, ফকিরহাট, কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা আকরাম শেখ (৪৫), নূরুল ইজারদার (৫০), হাসান শেখ (২৭), কামরুল শেখ (২৮), জিয়া শেখ (৩৮), কবির সুলতান (৫৫), কাইয়ুম জমাদ্দার (৪০) ও শরিফুল ইসলাম বয়াতি (২১)। অপর সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন (৩৮) পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। আত্মসমর্পণের সময় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে তিনটি বিদেশি বন্দুক, একটি এইট শুটার, একটি ফোর শুটার, পাঁচটি দেশীয় একনলা বন্দুক, ১৫টি দেশীয় পাইপগান, দুটি চায়না পাইপগান, ৩৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ৫৫ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জমা দেন।

কোস্ট গার্ড সুন্দরবনে সক্রিয় অন্য সব বনদস্যুকেও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। বাহিনীটি বলেছে- যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

ইয়েমেনে হামলা করতে সৌদিকে সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প: অ্যাক্সিওস

প্রকাশিত :  ১৩:৪৯, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতে সৌদি আরবকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস। 

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির পরপরই এমন খবর সামনে এলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে দুই পক্ষের মধ্যকার অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটতে পারে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে।

সোমবার হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলা হয়। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন শেষে হুতিদের একটি প্রতিনিধি দল উড়োজাহাজে করে সানার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পর ওই হামলা চালানো হয়। উড়োজাহাজটি পরে লোহিত সাগরের বন্দর নগরী আল হুদায়দাহে অবতরণ করে।

হুতিরা এই হামলার জন্য রিয়াদকে দায়ী করে সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছে। এরপর গোষ্ঠীটি সৌদির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবারের হামলার কয়েকদিন আগেই ওয়াশিংটনের সমর্থন চেয়েছিল রিয়াদ। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। পরে রুবিও সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। এরপর ট্রাম্প সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে আলাপ করেন। যুবরাজ অভিযানের জন্য ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন এবং ট্রাম্প তা মঞ্জুর করেন বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

সানা বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর হুতিরা রিয়াদকে অভিযুক্ত করলেও ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত সরকার অভিযানের দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি এতে রিয়াদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সৌদি আরবও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার কথা স্বীকার করেনি।

ইরানপন্থী শিয়া গোষ্ঠী হুতিরা ২০১৪ সালে সানা দখল করে নিলে পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালের এপ্রিলে দুই পক্ষের মধ্যে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এর মেয়াদ ছয় মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও, পরের দিনগুলোতে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটেনি।


বাংলাদেশ এর আরও খবর