img

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে ‘বিকল্প’ হিসেবে প্রচারণায় আমি বিব্রত-বিরক্ত: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে ‘বিকল্প’ হিসেবে প্রচারণায় আমি বিব্রত-বিরক্ত: রাষ্ট্রদূত মুশফিক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস উইং নিয়ে সম্প্রতি নানা ধরনের আলোচনা শুনতে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী।

তাকে বিকল্প হিসেবে ভাবা এবং কোনো পদে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালানোয় তিনি বিব্রত ও বিরক্ত বলেও জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে বিকল্প হিসেবে চেয়ে প্রচারণা না চালানোর অনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং নিয়ে সম্প্রতি নানা কথাবার্তা কানে আসছে। আমাকে বিকল্প ভেবে কেউ কেউ অতিরিক্ত আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমার অবস্থান পরিষ্কার করতেই এই লেখাটি দিতে মন সায় দিল।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব, ডেপুটি ও সহকারী প্রেস সচিবরা সমন্বিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড, নেতৃত্ব ও ভাবমূর্তি জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে তাদের সাধ্য অনুযায়ী আন্তরিক চেষ্টা করে যাচ্ছেন— অন্তত আমার কাছে তেমনটাই প্রতীয়মান।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেস উইংয়ের সদস্যদের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজের ধরন, একাগ্রতা, রাজনৈতিক দর্শন এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে, তাদের দুজন অন্তত দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। এই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই তাদের কাজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।’

মুশফিকুল ফজল আনসারী আরও বলেন, ‘ভালোর কোনো নির্দিষ্ট সীমা-পরিসীমা নেই। আরও ভালো করার সুযোগ সবসময়ই থাকে। বর্তমান টিম হয়তো কোথাও আরও ভালো করতে পারত; আবার অন্য কোনো টিম এলে সবকিছু আরও ভালো হবে- এমন নিশ্চয়তাও কেউ দিতে পারবেন না।’

তাকে কোনো পদে দেখতে চেয়ে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাকে অমুক কিংবা তমুক পদে ‘দেখতে চাই’- এমন প্রচার, স্লোগান ও অতিরিক্ত আগ্রহে আমি বিব্রত ও বিরক্ত।”

তিনি শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে লেখেন, ‘শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তরিকতার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে; কিন্তু অনুগ্রহ করে আমাকে কেন্দ্র করে এমন কোনো প্রচারণা চালাবেন না, যা কর্মরত ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে ফেলে, ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করে কিংবা আমাকে কোনো পদপ্রত্যাশী হিসেবে উপস্থাপন করে।’

পদ-পদবিকে দেশসেবার একমাত্র পথ নয় উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘পদ-পদবি দায়িত্ব পালনের একটি ক্ষেত্র হতে পারে, কিন্তু দেশসেবার একমাত্র পথ নয়। সত্যিকার অর্থে কাজ করার সদিচ্ছা, সাহস ও দায়বদ্ধতা থাকলে পদ-পদবির বাইরেও দেশ ও জনগণের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব।’

নিজের অতীত ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘নিকট অতীতে যখন আমার কোনো রাষ্ট্রীয় পদ-পদবি ছিল না, তখনো বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, জনগণের ভোটাধিকার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত ভবিষ্যতের পক্ষে দেশ-বিদেশে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়ে কাজ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়োজন, বিবেচনা ও আস্থার ভিত্তিতে যাকে যেখানে উপযুক্ত মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেবেন। এ নিয়ে দাবি সংবলিত প্রচারণা অপ্রয়োজনীয় এবং অস্বস্তিকর।’

পোস্টের শেষে মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেছেন, ‘পদ সাময়িক- দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা চিরস্থায়ী।’ 

img

রোমে ফ্লাইট বিপর্যয়: বিমানের তদন্ত শুরু, সরানো হলো জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরাকে

প্রকাশিত :  ১৭:০৬, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। তাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (এমডি ও সিইও) দপ্তরে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। তার স্থলে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. মহিউদ্দিনকে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পার্সোনেল শাখার ব্যবস্থাপক উম্মে কুলসুম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ পরিবর্তনের কথা জানানো হয়।

সূত্র জানায়, বিমানের বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমে তথ্য সরবরাহে গাফিলতির অভিযোগ ছিল বোসরা ইসলামের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে সম্প্রতি ইতালির রোমে বিমানের একটি ফ্লাইট কারিগরি ত্রুটির কারণে আটকে পড়ার ঘটনায় সংকটকালীন তথ্য ব্যবস্থাপনায় জনসংযোগ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ৬ আগস্ট কানাডার টরন্টো থেকে ২৫৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইট। জ্বালানি নেওয়ার জন্য ইতালির রোমে অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে। প্রায় ৮ ঘণ্টা চেষ্টা করেও ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব না হওয়ায় ফ্লাইটটি গ্রাউন্ডেড করা হয়। দীর্ঘ সময় যাত্রীদের উড়োজাহাজের ভেতরেই রাখা হয়। পরে তাদের নামিয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে নেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় অধিকাংশ যাত্রীকে বিমানবন্দরেই অবস্থান করতে হয়। এ ঘটনায় যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংকট মোকাবিলা ও তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়।

রোমে ফ্লাইট আটকে পড়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এতে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবা ও ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ঘটনার সময় গণমাধ্যম ও যাত্রীদের কাছে তথ্য সরবরাহে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তথ্যের যথাযথ আদান-প্রদান না করা, বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং সংকটকালীন জনসংযোগ ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার অভিযোগও ওঠে। বিষয়টি বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বোসরা ইসলামকে জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বিমানের একাধিক তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিষয়েও বোসরা ইসলামের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য না দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিশেষ করে বিমানের আলোচিত দম্পতি শামীমা পারভিন ও শাহজাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও মানবপাচারের অভিযোগের তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন বোসরা। অভিযোগ রয়েছে, শামীমা পারভিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিমানে স্বপদে বহাল থেকে বোসরা ইসলাম প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বিমানের ভেতরে তার প্রভাব ও কর্তৃত্বে বড় কোনো ছেদ পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সিভিল এভিয়েশন ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পারিবারিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়েছেন বোসরা ইসলাম। তার দুলাভাই এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান থাকায় সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নানা ধরনের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

এমনকি বিভিন্ন কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে ফেলা বা গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পৈতৃক সূত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে চাকরি পাওয়ার পর দুলাভাইয়ের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন বোসরা। তার আপন ছোটবোন নাজমুনও বিমানে কর্মরত। তিনি গ্রাউন্ড সার্ভিস বিভাগে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বোসরার চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়া নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সূত্রের দাবি, তিনি প্রথমে জুনিয়র ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। পরে দুলাভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে বিমানের গ্রুপ-৬-এ চাকরি পান বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবেই পারিবারিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ থেকে শুরু করে পরবর্তী কর্মজীবনের বিভিন্ন ধাপে তিনি সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বোসরা ইসলামের বক্তব্য জানতে গত তিনদিন ধরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


জাতীয় এর আরও খবর