img

বাড়িঘর পোড়ানোর নির্দেশ, হাসিনা-কাদের-হাছানের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

প্রকাশিত :  ০৬:৪৯, ১১ আগষ্ট ২০২৬

বাড়িঘর পোড়ানোর নির্দেশ, হাসিনা-কাদের-হাছানের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে

জুলাই আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা সংক্রান্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের কথোপকথনের ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সংশ্লিষ্ট মামলার শুনানিতে এসব ফোনালাপের তথ্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন ও সহিংসতার নির্দেশনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে তাদের কথোপকথনের নতুন কল রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

এর আগে, সোমবার (১০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের অডিও ফোনালাপ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

একই সময়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে ‘হেলিকপ্টার ব্যবহারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেওয়া’ এবং ‘আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতার দায় চাপানোর’ কথার অডিও ফোনালাপও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের পক্ষে অডিওটি উপস্থাপন করে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। পরে তামিম এ দুই অডিও ‘ফোনালাপের’ কথোপকথনের একটি অনুলিপি দেন সাংবাদিকদের।

নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার এসব ফোনালাপ হয়। ১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটের ফোনালাপে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদের কথোপকথনে ‘পাল্টা আগুনের’ কথা উঠে আসে। শেখ হাসিনা বলেন, ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে এখন সেগুলো পাবলিক দিয়ে পোড়াবে, আর কী করবে। এরপর তিনি বলেন, এখন অন্য কিছু করে লাভ নাই তোরাও পুড়াবি আয় আমরাও পুড়াব।

এই নির্দেশকে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ‘টিট ফর ট্যাট’ বলে সমর্থন করেন এবং বলেন, গায়েবানা জানাজা পড়ে তারা ১০ মিনিটের মধ্যে মহল্লায় মহল্লায় চলে যাবেন। শেখ হাসিনা তখন সংশোধন করে বলেন, মহল্লায় নয়, যার যার এলাকায় যেতে হবে। একইসঙ্গে তিনি প্রতিটি সংসদ সদস্যকে ডেকে এলাকায় ‘প্রোটেকশনের’ ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

এ কথোপকথনের পর ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের যুক্ত হন। শেখ হাসিনা তাকে সেতু ভবনে আগুন দেওয়ার কথা তুলে ধরে সেখানে র‍্যাব পাঠানোর কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদেরও বাড়ি ঘরে আগুন দিচ্ছে ওদের বাড়ি ঘরে আগুন পাবলিক দিবে। ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের কর।


জাতীয় এর আরও খবর

img

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১২:৪০, ১১ আগষ্ট ২০২৬

বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সরকার প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)-এর একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

অ্যামচেম বাংলাদেশের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি ও মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল আট সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন।

অ্যামচেম প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, প্রায় দুই মাস আগে সংগঠনটির নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। নতুন কমিটি বাংলাদেশে আরও মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। আগ্রহী বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে সরকার প্রস্তুত।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।


জাতীয় এর আরও খবর