img

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

প্রকাশিত :  ০৭:৪১, ০৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৩, ০৯ আগষ্ট ২০২৬

কর্নেল অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

রোববার (৯ আগস্ট) জোটের পক্ষ থেকে অলি আহমদের নাম রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক শেষে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐক্যের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

বৈঠকের পর জামায়াতের ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক না কেন, সেটা কোনো বিষয় নয়। আমরা এমন একজন খুব ভালো প্রার্থী দেব, যাকে জাতি মেনে নেবে।’

বর্তমান সংসদে সরকারি দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, যার ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফল অনেকটাই আগে থেকে অনুমান করা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও কেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে—এই প্রশ্নের জবাবে সাইফুল আলম খান মিলন বলেছিলেন, সরকারি দলের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন না।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমরা সরকারি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী চলব না। তারা তাদের কাজ করবে, আমরা আমাদের কাজ করছি।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৬:৩৫, ০৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:১১, ০৯ আগষ্ট ২০২৬

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনিয়ম–জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন আমানত ফেরত দিতে না পারা চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে প্রশাসক বসিয়েছে । প্রতিষ্ঠানগুলো হলো–ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

সরকারি অর্থে এসব প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের শুরুতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। আর এ জন্য সরকার মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা দিচ্ছে। শুরুতে এখান থেকে অর্থ দেওয়ার পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় ও সম্পদ বিক্রি করে অর্থ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে রেশিও অনুযায়ী বাকি অর্থ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

চার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা। প্রশাসকদের সঙ্গে দুইজন করে সহযোগী প্রশাসক দেওয়া হয়েছে। অবসায়ন হতে যাওয়া আভিভা ফাইন্যান্সে দেওয়া হয়েছে মো. আলাউদ্দিন হোসেনকে। এফএএস ফাইন্যান্সে আবু সামা মো. আতাউর রহমান, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্সে দেওয়া হয়েছে মো. সাদেকুর রহমানকে।

অবসায়নের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসেও প্রশাসক দেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে আদালত কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া পরিচালনা পর্ষদ থাকায় তা বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আদালতের আদেশের পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সময় দেওয়া হয়েছে চার প্রতিষ্ঠানকে। এ তালিকায় রয়েছে– বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। এসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত পরিস্থিতি উন্নতি করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে অবসায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্য দুর্বল ২০টি প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে কেন বন্ধ করা হবে জানতে চেয়ে গতবছর চিঠি দিয়েছিল। বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে সর্বশেষ ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়া হয়।

বিদ্যমান নিয়মে– কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন বা বন্ধ হলে একজন আমানতকারীর যতো টাকাই জমা থাকুক আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ফেরত পান। পরবর্তী ধাপে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনরুদ্ধার বা সম্পত্তি বিক্রি করে আনুপাতিক হারে টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তবে এক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ ফেরতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তি আমানত ৩ হাজার কোটি টাকা

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যক্তি আমানত ছাড়াও অন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমানত ও ঋণ নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। বন্ধ হতে যাওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মোট আমানত রয়েছে ১৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা। আর অন্য ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে ২ হাজার ২০২ কোটি টাকা। পুরো এই দায়ের মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে তিন হাজার ৩ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে– বন্ধ হতে যাওয়া পিপলস লিজিংয়ে তিন হাজার ৪১৫ কোটি টাকা আমানত এবং অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ রয়েছে ৪৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত এক হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের তিন হাজার ৫৬০ কোটি টাকা আমানত ও অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ রয়েছে এক হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানত রয়েছে ৬৪৬ কোটি টাকা। আভিভা ফাইন্যান্সের ৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকা আমানত এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের ঋণ রয়েছে সাড়ে তিন কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি থেকে নেওয়া আমানত ৮১০ কোটি টাকা। এফএএস ফাইন্যান্সের ৩৮৯ কোটি টাকা আমানতের মধ্যে ব্যক্তি আমানত ১০৫ কোটি টাকা। আর ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৪৫০ কোটি টাকা ঋণ এবং অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ রয়েছে ৩৪৭ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ব্যক্তি আমানত মাত্র ৩৬ কোটি টাকা।