img

১/১১ তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ০৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৫২, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

১/১১ তে তারেক রহমানকে ‘আয়নাঘরে’ বন্দি রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ঢাকা সেনানিবাসে ডিজিএফআইয়ের গোপন বন্দিশালা ‘জেআইসি সেলে’ আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সদর দপ্তরের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আগের সরকার দেশে একটি অমানবিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। সরকার ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত এসব গোপন বন্দিশালা ব্যবহার করা হতো। সেখানে অনেক ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এক/এগারর সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘরে বন্দি রাখা হয়েছিল। আমরা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পেয়েছি।’

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, এসব গোপন বন্দিশালা পরিচালনা ও নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের বিচারের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে নতুন করে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকেও আইনের মুখোমুখি করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে ৫ আগস্টের পর জেআইসি সেলের গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করার অভিযোগও করেন চিফ প্রসিকিউটর। তার দাবি, বিভিন্ন স্থানে দেয়াল তুলে কিছু অংশ আড়াল করা হয়েছে এবং বেশ কিছু তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আইনি বৈধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা এবং সেখানে থাকা আলামত সম্পর্কে ধারণা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেও এ ধরনের পরিদর্শন সহায়ক হবে।

এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতিরা ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত ডিজিএফআই সদর দপ্তরের জেআইসি সেলের গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেন। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজার নেতৃত্বে পরিদর্শন দলে চিফ প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ছিলেন।

এর আগে উত্তরায় র‍্যাব পরিচালিত একটি কথিত বন্দিশালা বা ‘গুমঘর’ও পরিদর্শন করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিরা।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব ও ডিজিএফআই পরিচালিত কথিত বন্দিশালায় মানুষকে গুম করে আটকে রাখার অভিযোগে দুটি মামলা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারকেরা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতকে স্বনির্ভর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৫৬, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানিসহ দেশের প্রতিটি খাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর করতে সরকার বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

\r\n

তিনি বলেন, দেশের প্রয়োজন ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আধুনিক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ড চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের নিবেদিত না রাখেন তাহলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নতি দিয়েই সফলতা আসবে না।

তিনি বলেন, চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে, প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। বর্তমান সরকার মনে করে, মানুষকে যদি শুরুতেই রোগের উৎপত্তির কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করা যায় তাহলে সহজেই অনেক রোগের নিরাময় সম্ভব। সে কারণে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান সরকার নতুন করে আরো এক লাখ হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যারা নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করবেন। তবে হেলথ ওয়ার্কার বা স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীরা রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট থাকবেন কিনা কিংবা কতটা সম্পৃক্ত থাকবেন এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা রয়েছে। এর পক্ষে বিপক্ষে নানামতও রয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে। সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা কিংবা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।

তবে অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।

এ সময় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চিকিৎসক নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তারপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত অবহেলা বা দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য একদিকে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অপরদিকে চিকিৎসক এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে জনমনে অনাস্থা তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে জনগণ ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা প্রত্যাশা করি।

আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে হবে না।

জাতীয় এর আরও খবর