img

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে অজুহাতের মাধ্যমে দায়িত্ব এড়াতে চাই না

প্রকাশিত :  ১৫:৪৮, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিয়ে অজুহাতের মাধ্যমে দায়িত্ব এড়াতে চাই না

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অজুহাত দেখিয়ে সরকার কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চায় না। তিনি বলেন, সরকার দেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত এবং সেগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে জুলাই আন্দোলন নিয়ে ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনির্বার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক এক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তিতে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এ আলোচনার আয়োজন করে বিএনপি।

বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে জনগণের ভোগান্তি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ অবশ্যই একটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্য, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের ভিত্তিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করছি জনগণকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ, গ্যাস নিয়ে জনগণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমারা জানি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। কিন্তু এ কথাও সত্য যে, ফ্যাসিবাদী সরকার এই জ্বালানি খাতকে তাদের পকেট ভারী করার খাত হিসেবে বিবেচনা করেছে। স্বাভাবিকভাবেই এত বছরে লুটপাট করে যে সেক্টরকে বিধ্বস্ত করে ফেলা হয়েছে, সেই সেক্টরকে পুনর্গঠন করতে হলে তো সময়ের প্রয়োজন।’

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়াও আমাদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে দেখলাম, আমরা অত্যন্ত ভঙ্গুর একটি অর্থনীতি পেয়েছি। আমরা দেখতে পেলাম ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা পেয়েছি, ভঙ্গুর বিভাজিত প্রশাসন পেয়েছি। প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় আমরা এই বিভাজন পেয়েছি। একটি রাষ্ট্রের যতগুলো ব্যবস্থা থাকে, প্রত্যেকটি ব্যবস্থা আমরা বিধ্বস্ত অবস্থায় পেয়েছি।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের যে আন্দোলন, এটি ছিল সম্পূর্ণরূপে জনগণের আন্দোলন। জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সফলতার দাবিদার এই দেশের সর্বস্তরের মানুষ। এই সফলতা একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টে যেটি হয়েছে, জুলাই আগস্টে যে সফলতা এসেছে, জনগণ যখন সম্পূর্ণভাবে সম্পৃক্ত হয়েছে, জনগণের সেই আন্দোলন সফল হয়েছে।’

বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে এই ৩১ দফাকে সমর্থন দিয়ে জনগণ বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে। যে কারণে আমি মনে করি, এই ৩১ দফা এখন আর শুধু বিএনপির নয়, এই ৩১ দফা এখন জনগণের ৩১ দফা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের ৩১ দফায় বলেছিলাম, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। একইসঙ্গে আমরা এটাও বলেছিলাম, এই ৩১ দফা হচ্ছে রাষ্ট্র পুনর্গঠনেরও ৩১ দফা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

দিল্লিতে হাসিনার গণমাধ্যমে ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত

প্রকাশিত :  ১৫:৫৫, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বিষয়টি ভারত সরকারের উদ্যোগ বা সংশ্লিষ্টতার আওতায় নয়।

ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটি একটি ‘বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার’ আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং সেখানে কোনো ধরনের মতামত ব্যক্ত করা হলে তার দায় ভারতের নয় কিংবা ভারত তা সমর্থন করে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ রয়েছে, সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।

গণমাধ্যম যেন হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‌‌‌‌‘‘আপনি যে মতবিনিময় সভার বিষয়টি উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি এই ফোরামে যে মতামতই ব্যক্ত করা হোক না কেন, ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না।’’

গত বছর ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সেখানে একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন; এমন খবর প্রকাশের পর ভারতের কাছে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, এ ধরনের আয়োজন দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা বলছে, এ ধরনের আয়োজন দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘পরবর্তী ব্রিকস (বিআরআইসিএস) শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে বলতে গেলে, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে পৃথকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অতিথি আমন্ত্রণের যে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে, সেই অনুযায়ী এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এর আগে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রহণ করেছেন এবং এটি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘‘আমরা আমন্ত্রণপত্রটি পেয়েছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত দেবেন।’’

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ ২০২৭ সালে বিমসটেক তার প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূরণ করবে এবং সে বছর ঢাকায় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর