img

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রকাশিত :  ১৩:২৫, ০৪ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৬, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। সংঘর্ষ আপাতত থেমে গেলেও এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই দিনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও ঢাকা কলেজেও দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা এলাকার ন্যাশনাল মেডিকেলের সামনে প্রথম দফায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কিছু সময় পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই আলিয়া মাদ্রাসা শাখার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার বিষয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হলের সিট অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, ছাত্রশিবির বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং আলিয়া মাদ্রাসার ঘটনাও তারই ধারাবাহিকতা।

এদিকে একই দিন সকালে জবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় পালটাপালটি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

অন্যদিকে একই সময়ে ঢাকা কলেজেও ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। সংঘর্ষ আপাতত থেমে গেলেও পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

চকবাজার থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর ২টার পর থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য শান্ত হলেও বিকাল ৪টার দিকে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর কয়েক দফা থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পুলিশ দুই পক্ষের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

দিল্লিতে হাসিনার গণমাধ্যমে ভাষণ নিয়ে যা বলছে ভারত

প্রকাশিত :  ১৫:৫৫, ০৪ আগষ্ট ২০২৬

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেন, বিষয়টি ভারত সরকারের উদ্যোগ বা সংশ্লিষ্টতার আওতায় নয়।

ব্রিফিংয়ে জোর দিয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটি একটি ‘বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার’ আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং সেখানে কোনো ধরনের মতামত ব্যক্ত করা হলে তার দায় ভারতের নয় কিংবা ভারত তা সমর্থন করে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সংগঠন ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের যে উদ্বেগ রয়েছে, সেই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই।

গণমাধ্যম যেন হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‌‌‌‌‘‘আপনি যে মতবিনিময় সভার বিষয়টি উল্লেখ করছেন, সেটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এতে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি এই ফোরামে যে মতামতই ব্যক্ত করা হোক না কেন, ভারত সরকার তার কোনোটিই সমর্থন করে না।’’

গত বছর ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সেখানে একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন; এমন খবর প্রকাশের পর ভারতের কাছে নিজেদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকা বলছে, এ ধরনের আয়োজন দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকা বলছে, এ ধরনের আয়োজন দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিবাচক গতিধারায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘পরবর্তী ব্রিকস (বিআরআইসিএস) শীর্ষ সম্মেলনের বিষয়ে বলতে গেলে, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে পৃথকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ব্রিকসের আউটরিচ সেশনে অতিথি আমন্ত্রণের যে প্রচলিত নিয়ম রয়েছে, সেই অনুযায়ী এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক জোটের প্রধানদেরও একইভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এর আগে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গ্রহণ করেছেন এবং এটি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, ‘‘আমরা আমন্ত্রণপত্রটি পেয়েছি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীই সিদ্ধান্ত দেবেন।’’

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। কারণ ২০২৭ সালে বিমসটেক তার প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূরণ করবে এবং সে বছর ঢাকায় বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর