img

উখিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের

প্রকাশিত :  ১৭:০০, ৩১ জুলাই ২০২৬

উখিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। এ সময় রোহিঙ্গারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে ট্রাম্পের দূতের কাছে নিজ দেশে, মিয়ানমারে, নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। 

বিমানবন্দর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যান। প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রতিনিধিদল উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ৮-ওয়েস্ট এবং ৬নং ক্যাম্পও ঘুরে দেখেন তারা। ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

পরিদর্শনের সময় অনেক রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have a home, we miss our home. ’ এই বার্তার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং সংকটের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চান।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, বিকালে কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাধান হিসেবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। একই দিন বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।  

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং এ সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আলোচনায় আনতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে, সে বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ঢাকায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সার্জিও গোরের তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

রুমায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল খাদে, প্রাণ গেল ২ পর্যটকের

প্রকাশিত :  ১৪:১৩, ৩১ জুলাই ২০২৬

বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেওক্রাডং সড়কের বগালেক ভিউ পয়েন্টসংলগ্ন পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাহাড়ের গভীর খাদে পড়ে গেলে চালক ও আরোহী নিহত হন। পরে রাত ১১টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন, মো. জামির উদ্দিন (৩২) ও রোকাইয়া আক্তার (৩০। নিহত মো. জামির উদ্দিন ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলার মানিকারহাট বড় মানিকা এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে। রোকাইয়া আক্তার ঢাকার লালবাগ থানার পোস্তা টিএসও এলাকার মো. চুন্নু গাজীর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১১টার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে মোট ১০ জন পর্যটক ঢাকা থেকে রওনা দেন।  বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা বগালেক এলাকার একটি কটেজে রাত্রিযাপনের জন্য ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ১০ জন পর্যটক বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান। সেখান থেকে আটজন কটেজে ফিরে আসেন। গাইডের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার মোটরসাইকেলে ভিউ পয়েন্ট অতিক্রম করে কেওক্রাডং দার্জিলিং পাড়ার দিকে চলে যান।

বিষয়টি সঙ্গে থাকা গাইড মো. ইসমাইল বগালেক আর্মি ক্যাম্পে জানান। মোটরসাইকেল আরোহীরা রাত আটটা বাজার পরেরও ফিরে না আসায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে তল্লাশি শুরু করেন। অভিযানে রাত ১১টার দিকে বগালেক ভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন পাহাড়ি খাদ থেকে ওই দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া বলেন, বগালেক ভিউ পয়েন্ট এলাকার পাহাড়ি খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


জাতীয় এর আরও খবর