img

শতকের ঘরে সবজি, কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা

প্রকাশিত :  ০৫:৫৯, ৩০ জুলাই ২০২৬

শতকের ঘরে সবজি, কাঁচা মরিচ ৪০০ টাকা

শ্রাবণের টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতার প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দু-একটি সবজি ছাড়া রাজধানীর বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম এখন কেজিতে ১০০ টাকা বা তারও বেশি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উস্কে দিয়েছে কাঁচামরিচের ঝাল। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজির দাম ঠেকেছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায়। বেড়েছে ডিমের দামও। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁও, মগবাজার, কারওয়ান বাজার এবং আরও কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দরদামে আগুনের আঁচ টের পাওয়া গেল।

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ‘কয়েকদিনের লাগাতার টানা বৃষ্টিতে ক্ষেত ও আড়তে কাঁচামাল পচে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সবজি তোলা সম্ভব হয়নি। ফলে ঢাকায় সরবরাহ কমেছে।’ মেঘ কেটে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং নতুন মৌসুমি সবজি বাজারে এলে দামের এই উল্লম্ফন কেটে যাবে বলেও আশ্বাস দিচ্ছেন বিক্রেতারা। যদিও ক্রেতাদের অভিযোগ হচ্ছে, তদারকি জোরদার না করলে এভাবে এমন অজুহাতে সাধারণ মানুষের পকেট কাটতেই থাকবে অসাধু চক্র।

গতকাল ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি গোল বেগুন ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকা; আর লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা। করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কচুর লতির কেজি বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ধুন্দুল, ঝিঙ্গে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শের কেজি কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকা।     

বর্ষার বাজারে একটু স্বস্তি দিচ্ছে কেবল পেঁপে; প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। পেঁপে ছাড়া অন্য সবজি সপ্তাহ দুয়েক আগেও ২০ থেকে ৪০ টাকা কমে কেনা গেছে। এলাকাভিত্তিক বাজারগুলোর তুলনায় কারওয়ান বাজারে এখনও কিছু কমে সবজি কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

সবচেয়ে বেশি দাম চড়েছে কাঁচামরিচের। ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজার থেকে একসঙ্গে এক কেজি কিনলে খরচ হবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। সপ্তাহদুয়েক আগেও মরিচের কেজি ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।    

ডিম-মুরগির বাজারে গিয়ে দেখা গেল, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা বেড়ে ফার্মের সাদা রঙের প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১৩০ এবং বাদামি রঙের ডিম ১৩৫ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও সোনালি জাতের মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মুদিপণ্যের বাজারে তেমন কোনো বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি।

কাঁচামরিচের বাড়তি দাম নিয়ে কারওয়ান বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষেতে সবজি গাছ মরে গেছে। মরিচ গাছের গোড়ায় পানি জমলে গাছ বাঁচে না। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল থেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে সবজির ট্রাক ঢাকায় আসতে পারছে না। আড়তেই সবজির সরবরাহ অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। ফলে পাইকারিতে দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।’

যশোর-ঝিনাইদহ থেকে ট্রাকে করে এনে ঢাকায় পাইকারি দরে সবজি বেচেন আবদুর রহিম। গতকাল বিকেলে কারওয়ান বাজারে তিনি বলেন, ‘ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। সেজন্য ব্যাপারীদের বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এদিকে সবজির দাম ‘অস্বাভাবিক’ বেড়েছে বলে জানালেন ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। আগারগাঁও কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা সরকারি চাকরিজীবী হায়দার মঈনুল আহসান ক্ষোভ ঝেড়ে সমকালকে বলেন, ‘পেঁপে ছাড়া ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। আড়াইশ গ্রাম কাঁচামরিচের দাম ১০০ টাকা নিলেন দোকানদার। সরকারের তদারকি না থাকায় বৃষ্টির দোহাই দিয়ে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছে।’    

কারওয়ান বাজার থেকে ১২০ টাকা দরে এক কেজি বরবটি কিনেছেন রিকশাচালক হোসেন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মানুষ খাবে কী? সবকিছুর দামই তো বাড়তি।’ মাছ-মাংস কেনা বাদ দিয়েছেন বহু আগে জানিয়ে আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সবজিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।’ 


 


img

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার, বলেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:০২, ৩০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। আজ বুধবার মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে উল্লেখ করে জনসভায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নাগরিকরা বলতেন যে ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান’, কিন্তু কোথায় আমরা তাদের ফেরত পাঠাতাম? মিয়ানমার তো তাদের গ্রহণ করতে রাজি ছিল না।”

“সম্প্রতি তারা মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে।”

“কীভাবে এটা সম্ভব হলো? সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। এ কারণেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক কূটনীতি প্রয়োজন।”

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা হামলা ঘটায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরাকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সেনা সদস্যদের নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে টিকতে না পেরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কক্সবাজারের টেকনাফ জেলার কুতুপালংয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই চলে আসছে। বর্তমানে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার।

গতকাল চেন্নাহ’র জনসভায় মালয়েশিয়ার শরণার্থীদের দেশের আইন মেনে চলার নির্দেশ দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। অন্যথা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এর আগেও সতর্ক করেছি এবং আবারও করছি। গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি যে শরণার্থী শিবির এবং অনুমোদিত এলাকাগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও যেন তাদের উপস্থিতি চোখে না পড়ে।”

“এটা মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না। যদি করে, পুলিশ সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে।”

সূত্র : দ্য স্টার

জাতীয় এর আরও খবর