img

এবার বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ

প্রকাশিত :  ১৩:১২, ২৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:২৮, ২৯ জুলাই ২০২৬

এবার বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ
শ্রীমঙ্গলে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে রওনা দেওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরকে এবার হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার প্রবেশমুখে আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে উপজেলার মুছাই এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হয়।

পরে এনসিপি নেতারা রাস্তায় বসে পড়েন। তারা ১ ঘণ্টা যাবত বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বসে আছেন।

হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ জানান, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এনসিপির নেতারা। বুধবার বিকালে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছিল।

বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহসহ কয়েকজন হবিগঞ্জ যাচ্ছেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের বহনকারী গাড়িবহর চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

১৪৪ ধারা জারির পরও হবিগঞ্জে আসছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক যথাক্রমে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। এছাড়া কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি এবং সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

এদিকে জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলাম। যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে বিষয়টি আমরা জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। তাই বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা জাতিকে অবহিত করব।

হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ বরাবরই একটি শান্তিপ্রিয় শহর। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসও রয়েছে। এ জেলার মানুষ যেমন অতিথি আপ্যায়নপ্রিয়, তেমনি বেয়াদবিও সহ্য করেন না।

এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, রাজনীতির সমালোচনার একটি শিষ্টাচার থাকা দরকার। এর বাইরে গিয়ে তারা দেশের কর্ণধার আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়েই চলেছেন। তারা অপরপক্ষ রাজনীতিবিদ। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জন্ম হয়েছে। তারা যদি অন্যান্য দলের মতো দীর্ঘ রাজনীতি করে উঠত তবে এ ধরনের অশালীন বক্তব্য দিত না।

তিনি বলেন, হবিগঞ্জের মানুষ বরাবরই প্রতিবাদী। তাই হয়তো সহ্য করতে না পেরে মানুষ প্রতিবাদ করেছে। তবে এ ধরনের বিষয় কাম্য নয়। আমরা শুনেছি তারা আজও আবার আসবে। আমি চাই এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে তাদের শালীনতার ভেতর থেকে রাজনীতি করা উচিত।

সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

বিজিবি জানায়, জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রার সভা শেষ করে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাড়িবহর নিয়ে সার্কিট হাউসে যাবার পথে সবুজবাগ এলাকায় পৌঁছলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলা চালায় একদল যুবক। এ সময় তাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে তারা সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নেন। তখন দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। এছাড়া ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য নতুন সুবিধা

প্রকাশিত :  ১৯:৩৯, ২৯ জুলাই ২০২৬

সমস্যাগ্রস্ত একীভূত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। আগে এই সুবিধা কেবল নিজের চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও ভাই-বোনের চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনেও এই অর্থ উত্তোলন করা যাবে। 

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে বিশেষ স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা কেবল নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে অর্থ তুলতে পারতেন। সংশোধিত নীতিমালায় সেই সুযোগ বাড়িয়ে বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন ও স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনেও অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে পরিবর্তন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকদের জরুরি আর্থিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থ উত্তোলনের শর্ত সহজ করা হয়েছে।

পর্ষদ সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, অনেক সময় চিকিৎসার বাইরে পারিবারিক নানা জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। যেমন মেয়ের বিয়ে, পরিবারের সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

গত বছর এসব ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধ কার্যক্রমও চলছে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক সাবেক বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করত এস আলম গ্রুপ। ওই সময় ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের অভিযোগে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।


জাতীয় এর আরও খবর