img

বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশিত :  ০৭:১৯, ২৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৪১, ২৯ জুলাই ২০২৬

বিএনপি-এনসিপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি

হবিগঞ্জে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আজ বুধবার ( ২৯ জুলাই) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ এ আদেশ জারি করেন। 

আদেশে বলা হয়, আজ বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় এনসিপি বিক্ষোভ সমাবেশ ও পথসভা আহ্বান করেছে। অপরদিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা, হবিগঞ্জ পৌর বিএনপি এবং হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল একই সময়ে ও একই স্থানে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সমাবেশ দু’টিতে উভয় দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। 

এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে এবং যেকোনো সময় সংঘর্ষ, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি, জনশান্তি বিনষ্ট ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবিলম্বে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জনস্বার্থে একান্ত প্রয়োজন।

এরই প্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ৫ বা তার অধিক লোকের সমাবেশ, জনসভা, মাইকিং, মিছিল, শ্লোগান, পিকেটিং, কোনো প্রকার যন্ত্র দ্বারা বিকট শব্দ উচ্চারণ এবং আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী যেকোনো কর্মসম্পাদন ইত্যাদির ওপর পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য নতুন সুবিধা

প্রকাশিত :  ১৯:৩৯, ২৯ জুলাই ২০২৬

সমস্যাগ্রস্ত একীভূত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীরা এখন চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। আগে এই সুবিধা কেবল নিজের চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমিত ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে ও ভাই-বোনের চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনেও এই অর্থ উত্তোলন করা যাবে। 

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে বিশেষ স্কিমের আওতায় আমানতকারীরা কেবল নিজের চিকিৎসার প্রয়োজনে অর্থ তুলতে পারতেন। সংশোধিত নীতিমালায় সেই সুযোগ বাড়িয়ে বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন ও স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনেও অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে পরিবর্তন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় গ্রাহকদের জরুরি আর্থিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে অর্থ উত্তোলনের শর্ত সহজ করা হয়েছে।

পর্ষদ সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমে বলেন, অনেক সময় চিকিৎসার বাইরে পারিবারিক নানা জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। যেমন মেয়ের বিয়ে, পরিবারের সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসা বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

গত বছর এসব ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধ কার্যক্রমও চলছে। একই সঙ্গে অবশিষ্ট অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক সাবেক বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ করত এস আলম গ্রুপ। ওই সময় ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের অভিযোগে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।


জাতীয় এর আরও খবর