img

পদত্যাগ করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি আদিল চৌধুরী

প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ৩০ জুলাই ২০২৬

পদত্যাগ করেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি আদিল চৌধুরী

তীব্র আর্থিক সংকট, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং ধারাবাহিক লোকসানের প্রেক্ষাপটে ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর থেকে তিনি আর নিয়মিত ব্যাংকে যাচ্ছেন না বলে ন্যাশনাল ব্যাংক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত বছরের ৭ জুলাই তিন বছরের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগ দেন আদিল চৌধুরী। তার আগে যিনি এমডি ছিলেন—মো. তৌহিদুল আলম খান, তিনিও মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

ন্যাশনাল ব্যাংকে আসার আগে আদিল চৌধুরী ‘ব্যাংক এশিয়া’র প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

আদিল চৌধুরী এমন সময় পদত্যাগ করলেন, যখন ন্যাশনাল ব্যাংক উচ্চ খেলাপি ঋণ, ধারাবাহিক লোকসান ও আমানত প্রত্যাহারের চাপে আছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংককে ঢাকার পান্থপথে নির্মীয়মান ‘টুইন টাওয়ার’ ভবন ইজারা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংক ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর লোকসান গুনছে। উচ্চ খেলাপি ঋণ ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের কারণে তাদের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘদিন ধরে সিকদার গ্রুপ ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর গ্রুপটি ব্যাংকটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায়। এখন ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ ও আর্মানা গ্রুপের পরিবারের সদস্যরা।

img

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা নিতে রাজি মিয়ানমার, বলেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৩:০২, ৩০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার। আজ বুধবার মালয়েশিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় প্রদেশ নেগেরি সেম্বিলানের চেন্নাহ শহরে আয়োজিত এক জনসভায় এ তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখের পাশাপাশি মালয়েশিয়া থেকেও ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে উল্লেখ করে জনসভায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের নাগরিকরা বলতেন যে ‘রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠান’, কিন্তু কোথায় আমরা তাদের ফেরত পাঠাতাম? মিয়ানমার তো তাদের গ্রহণ করতে রাজি ছিল না।”

“সম্প্রতি তারা মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার এবং বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে।”

“কীভাবে এটা সম্ভব হলো? সম্ভব হয়েছে এই কারণে যে আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম। এ কারণেই মালয়েশিয়ার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে সতর্ক কূটনীতি প্রয়োজন।”

২০১৭ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বেশ কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে একযোগে বোমা হামলা ঘটায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)। সেই হামলার প্রতিক্রিয়ায় আরাকানের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

সেনা সদস্যদের নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের মুখে টিকতে না পেরে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে শুরু করেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে কক্সবাজারের টেকনাফ জেলার কুতুপালংয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদেরকে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই ব্যবস্থাই চলে আসছে। বর্তমানে কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছেন ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা।

মালয়েশিয়াতেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি বড় কমিউনিটি রয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার।

গতকাল চেন্নাহ’র জনসভায় মালয়েশিয়ার শরণার্থীদের দেশের আইন মেনে চলার নির্দেশ দেন আনোয়ার ইব্রাহিম। অন্যথা ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি এর আগেও সতর্ক করেছি এবং আবারও করছি। গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে কথা বলেছি এবং নির্দেশ দিয়েছি যে শরণার্থী শিবির এবং অনুমোদিত এলাকাগুলো ব্যতীত অন্য কোথাও যেন তাদের উপস্থিতি চোখে না পড়ে।”

“এটা মালয়েশিয়া। তারা আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না। যদি করে, পুলিশ সেক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেবে।”

সূত্র : দ্য স্টার

জাতীয় এর আরও খবর