img

এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো : সারজিস আলম

প্রকাশিত :  ১১:২১, ৩১ জুলাই ২০২৬

এখন বিএনপির অবস্থা ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন, বর্তমানে দলটি যেভাবে এনসিপির কর্মসূচিতে বাধা ও প্রতিরোধ তৈরির চেষ্টা করছে, তা ‘ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের’ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনীয়। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের যে সামান্য সক্ষমতা ছিল, বিএনপি সেটুকুও দেখাতে পারছে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

হবিগঞ্জে সাম্প্রতিক মামলা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, এনসিপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে বিএনপি এমন আচরণ করছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এনসিপিকে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা শুনলাম আমাদের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে। আসলে ছিনতাই একটা হয়েছে, তারেক রহমান ও বিএনপির মান-সম্মানের ছিনতাই হয়েছে। কিন্তু ছিনতাই তারা করেছে। তাদের কাজের মাধ্যমে ছিনতাই করেছে। এখন বাংলাদেশের মানুষের সামনে তাদের তো মুখ দেখানোর মতো অবস্থা নেই। এইজন্য মানে তাদের এখন অবস্থা।

তিনি বলেন, যারা ছাত্রদলের হয়ে এটা করেছে, তারা কতটা অথর্ব হলে এত মান-সম্মান চলে যাওয়ার পরে আবার এমন একটা কাজ করে, যেটা দিয়ে মানুষের কাছে হাসির খোরাক হয়। এটা হচ্ছে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থা।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিএনপি যেভাবে আমাদেরকে বাধা দেওয়ার, প্রতিরোধ করার, গলা টিপে ধরার চেষ্টা করছে, এটা হচ্ছে ব্রেইনলেস আওয়ামী লীগের মতো। মানে তাদের তো ওইটুকু ছিল, এরা ওইটুকুও শো করতে পারতেছে না। 

সারজিস আলম আরও বলেন, এখন আমি তো শুধু এটাই চিন্তা করি যে যেখানে মামলাটা নেওয়া হলো, যে মামলাটা লিখেছে। সেও হয়তো যারা মামলাটা লিখতে বাধ্য করেছে মনে মনে তাদেরকে গালি দিচ্ছিল।

জাতীয় এর আরও খবর

img

উখিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের

প্রকাশিত :  ১৭:০০, ৩১ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। এ সময় রোহিঙ্গারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে ট্রাম্পের দূতের কাছে নিজ দেশে, মিয়ানমারে, নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। 

বিমানবন্দর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যান। প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রতিনিধিদল উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ৮-ওয়েস্ট এবং ৬নং ক্যাম্পও ঘুরে দেখেন তারা। ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

পরিদর্শনের সময় অনেক রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have a home, we miss our home. ’ এই বার্তার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং সংকটের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চান।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, বিকালে কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাধান হিসেবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। একই দিন বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।  

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং এ সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আলোচনায় আনতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে, সে বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ঢাকায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সার্জিও গোরের তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর