img

ফুড ফর হেলথ অ্যাওয়ার্ডসঃ স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনে এগিয়ে থাকা ব্যবসাগুলোকে সম্মাননা

প্রকাশিত :  ১২:২৫, ৩১ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩২, ৩১ জুলাই ২০২৬

ফুড ফর হেলথ অ্যাওয়ার্ডসঃ স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনে এগিয়ে থাকা ব্যবসাগুলোকে সম্মাননা

বিএনপি ও ছাত্রদল সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারী এমপি ডা. মাহমুদা মিতু।

তার প্রশ্ন, তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের, জুলাইয়ের তরুণ নেতাদের, আমাদের মেরে ফেলতে চান। শেখ মুজিব যেমন জাসদ নেতাদের মেরে ফেলেছিলেন। তারেক রহমানও কি আমাদের হত্যা করে একা রাজনীতি করতে চায়। সেটা করতে চাইলে উনি আমাদের বলুক।

সিলেট ও গোলাপগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এমনটি বলেন তিনি।

এরআগে সোমবার দুপুরে এনসিপির গাড়িতে ইটপাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুর করা হয়।ওই গাড়িতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মাহমুদা মিতু ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে মিতু বলেন, জুলাইয়ের নেতারা হামলার শিকার হচ্ছে, ছাত্রদল বিএনপি হামলা করছে, তারেক রহমানের কোন প্রতিক্রিয়া নাই। এভাবে তিনি দেশ চালাতে পারবেন না।

মিতু আরও বলেন, আমাদের হত্যার উদ্দেশে হামালা করা হয়েছে। এটা সেন্টালি অরগেনাইজিভাবে তারা (বিএনপি) করছে। আজকে দুদিন ধরে হামলা হচ্ছে কিন্তু বিএনপির সেন্ট্রালি কোন আওয়াজ নাই, কাউকে বহ্স্কিার করেনি। বরং তারা পুলিশকে বলছে, তোমরা চুপ থাকো।

তিনি বলেন, আজ যেভাবে গ্লাস ভাঙছে স্পট ডেড হতে পারতো। আরেকটা ইট ছুঁড়লেই কেউ মারা যেতো।

হামলার প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, শেখ হাসিনার মতো করে তারেক রহমান এখন ছাত্রদলকে খুনি বাহিনী বানাত চায় কি না। যদি তারেক রহমান তাই চায় তাইলে ঘোষণা দিক। আমরা ওইভাবে প্রস্তুতি নেবো।

তিনি বলেন, ছাত্রদলকে তারেক রহমান এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করবে আমরা ভাবি নাই। তাইলে প্রটেকশন নিয়ে চলতাম। আর পুলিশ তো দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া দেখতেছে। এই পুলিশ বাংলাদেশের পুলিশ নয়, এটি তারেক রহমানের পুলিশ। তারেক রহমনে আমাদের দমন করার জন্য স্বৈরাচারী পথ বেছে নিয়েছেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে মতনিবিনিময় করতে বুধবার দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রিয় নেতারা। এরআগে থেকেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছামাত্র ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন। আর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা গেইটের নূর ম্যানশনের সামনে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

উখিয়ায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত, ঘরে ফেরার আকুতি রোহিঙ্গাদের

প্রকাশিত :  ১৭:০০, ৩১ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর। এ সময় রোহিঙ্গারা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে ট্রাম্পের দূতের কাছে নিজ দেশে, মিয়ানমারে, নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানান।

আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছায়। 

বিমানবন্দর থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা সরাসরি উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে যান। প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতসহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রতিনিধিদল উখিয়ার ৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ৮-ওয়েস্ট এবং ৬নং ক্যাম্পও ঘুরে দেখেন তারা। ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা, খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।

পরিদর্শনের সময় অনেক রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘You have a home, we miss our home. ’ এই বার্তার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। 

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা এবং সংকটের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানতে চান।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, বিকালে কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তার ধারাবাহিকতা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সমাধান হিসেবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

এর আগে তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। একই দিন বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।  

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করা হয় এবং এ সংকটের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোহিঙ্গা সংকটকে আবারও আলোচনায় আনতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক চাপ বহন করছে, সে বিষয়টিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরতে সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ঢাকায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সার্জিও গোরের তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর