img

সৌদি জোটে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার কারণ জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ১৬:২৬, ০২ আগষ্ট ২০২৬

সৌদি জোটে বাংলাদেশের যোগ দেয়ার কারণ জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪টি দেশ নিয়ে একটি মেরিটাইম (সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা) জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানও এ জোটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ অঞ্চলের এই নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগে বাংলাদেশ কেন যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আজ রোববার (২ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওই মেরিটাইম জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এটি রিয়াদের সঙ্গে ‘কৌশলগত’ সম্পর্ক তৈরির অংশ উল্লেখ করে বলেন, ‘হুতিদের ঠেকাতে’ সৌদি আরবের নেতৃত্বে বহুজাতিক এই জোটে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ।বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে ওই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে, সৌদির সঙ্গে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এবং আমরা সৌদির সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল হজ-ওমরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছি না। কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে কৌশলগত এবং এটা খুবই মজবুত সম্পর্ক হবে।’

মক্কা-মদিনার দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক হওয়ার কারণে সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ থাকার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘যেকোনো সময় যদি সৌদি আরব নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো সহায়তা চায়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নৈতিক ও আদর্শিক জায়গা থেকে সবসময়ই সাড়া দেবে এবং সহায়তা করবে। মূলত এটি সেখানে হুতি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য। অন্যদিকে, আমরা কিন্তু ইরানের সাথেও কথা বলছি। সুতরাং এমন নয় যে, ইরানকে আক্রমণ করতে হবে।’

জোটে অংশগ্রহণটা কেমন হবে, বাংলাদেশ সৈন্য পাঠাচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি হুতিদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলার জন্য একটি জোট। তো, হুতিদের মোকাবিলা করতে যে ধরনের সহায়তা লাগবে, বাংলাদেশের যে ‘রিসোর্সেস’ রয়েছে, সে অনুযায়ী আমরা সেটা দেব।

জাতীয় এর আরও খবর

img

মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির প্রস্তাব বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৯:০৮, ০২ আগষ্ট ২০২৬

দেশের চলমান গ্যাস–সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার পর এবার মিয়ানমারের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে সংকট নিরসনের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিবেশী হিসেবে মিয়ানমারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে। 

এ সময় দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা মেটাতে পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম পর্যন্ত পাইপলাইন করার অতীতের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এরপর পাইপলাইনে গ্যাস আনার পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবেও গ্যাস সরবরাহের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার কথা জানান রাষ্ট্রদূত। জ্বালানিমন্ত্রীও তার এ প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন।

এতে আরও বলা হয়, জ্বালানি খাতের এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে বেগবান করার লক্ষ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন। 

এ সময় তিনি মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন বলে জানান এবং প্রয়োজনে তিনি নিজেও মিয়ানমার সফর করার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের কথা স্মরণ করিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে পাইপলাইন স্থাপিত হলে তা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। 

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ–মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক করে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।

সাক্ষাৎকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানিসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎসচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় এর আরও খবর