প্রযুক্তিগত ত্রুটি

img

ইতালি বিমানবন্দরে ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা ঢাকাগামী বিমান, ভেতর আড়াই শতাধিক যাত্রী

প্রকাশিত :  ১৬:৩৪, ০৭ আগষ্ট ২০২৬

ইতালি বিমানবন্দরে ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা ঢাকাগামী বিমান, ভেতর আড়াই শতাধিক যাত্রী

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইতালির রোমের একটি বিমানবন্দরে প্রায় সাত ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-ঢাকা রুটের একটি বিমান।

আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) নিয়মিত জ্বালানি নেওয়ার সময় ইতালির স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

ফ্লাইটটিতে থাকা প্রায় ২৬০ জন যাত্রী এখনও উড়োজাহাজের ভেতরে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

জানা গেছে, বিজি ৩০৬ ফ্লাইটটি গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। ইতালিতে অবতরণের পর যাত্রীদের জানানো হয়, উড়োজাহাজটিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং মেরামতের প্রয়োজন রয়েছে। 

স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ফ্লাইটটি বিমানবন্দরেই অবস্থান করছিল। বিমানটি আবার কখন যাত্রা শুরু করবে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীরা আরও জানান, ঢাকায় আসার আগে ইতালিতে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফ্লাইটটির নির্ধারিত বিরতি ছিল। তবে উড়োজাহাজের প্রযুক্তিগত সমস্যার প্রকৃত কারণ এবং ফ্লাইটে থাকা যাত্রীর সংখ্যা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এক প্রেস বার্তায় জানায়, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি৩০৬ (টরন্টো–রোম–ঢাকা) পরিচালনাকালে ইতালির রোম ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। যাত্রীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে উড়োজাহাজটির প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি নিরসনের কাজ চলছে।’

বিমান জানায়, ‘ত্রুটি সম্পূর্ণরূপে নিরসন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে বিজি৩০৬ রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে। একই উড়োজাহাজে পরিচালিত হওয়ার কারণে বিজি৩০৫ (ঢাকা–রোম–টরন্টো) ফ্লাইটের যাত্রাও বিলম্বিত হবে। রোমে অবস্থানরত বিজি৩০৬-এর যাত্রীদের জন্য হোটেলে আবাসন, খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব ও যাত্রীদের অসুবিধার দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সাভারে পুলিশের ধাওয়ায় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৫:৪৩, ০৮ আগষ্ট ২০২৬

সাভারে পুলিশের ধাওয়ার মুখে ছাদ থেকে পড়ে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকশী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) গার্ড জাফরের ছেলে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পুলিশের ধাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুর সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারের ৫ম তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়। 

পুলিশ জানায়, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানা থেকে প্রেমের সম্পর্কের জেরে শাহারিয়ার কবির সৌমি নামে একটি ছেলে একটি মেয়েকে নিয়ে সাভারে তার মামা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাসায় আসে। এ ঘটনায় মেয়ের পরিবার পীরগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাভার মডেল থানায় আসে। পরে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ সাভার মডেল থানার পুলিশের আরও একটি টিম নিয়ে মামা মনোয়ারুল হোসেন বকশীর বাসায় অভিযান চালায়। ভাগ্নে ও ওই মেয়ে এর আগেই ওই বাসা থেকে চলে যায়। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামা মনোয়ারুল ছাদে পালাতে যান। এসময় পুলিশও তার পিছু নিয়ে ছাদে খুঁজতে যায়। এরপর হঠাৎ মনোয়ারুল হোসেন বকশী পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।

প্রতিবেশী রাসেল মনি জানান, রাত ১২টার দিকে পুলিশ ওই বাসায় অভিযান চালায়। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মনোয়ারুল হোসেন বকশী ছাদ থেকে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত পুলিশরাও ঘটনাস্থল চলে যায়। পরে পরিবারের লোকজন মনোয়ারুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওই রাতেই চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার জানান, রাতে পুলিশ তার ভাগ্নেকে খুঁজতে মনোয়ারুলের বাসায় যায়। এসময় মনোয়ারুল ছাদে গেলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া করে। এরপর মনোয়ারুল ছাদ থেকে পড়ে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানা থেকে অভিযানে আসা উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মেয়েটির বাবা একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সাভারে অবস্থান করছিল বলে নিশ্চিত হই। বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটির বাবাকে নিয়ে সাভার মডেল থানায় যাই এবং ওই থানার পুলিশ নিয়ে বিপিএটিসি যাই। পরে বাসায় ঢুকে জাফর ও তার স্ত্রীকে পাই। এসময় বাসায় আর কেউ ছিল না। তার কয়েক মিনিটের ভেতরে একটি শব্দ শুনতে পাই। পরে নিচে গিয়ে দেখি একটি ছেলে বাসার নিচে পড়ে আছে। তারপরে আমরা চলে আসি।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, পীরগঞ্জ থানা পুলিশ রাতে আসামি ধরার জন্য সাভারে এসেছিল। পরে আমাদের অবহিত করলে আমাদের থানা পুলিশের একটি টিমও সঙ্গে গিয়েছিল। কিন্তু পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভবনের ভিতরে আসামি ধরতে গেলে এক যুবক ছাদ থেকে পড়ে নিহত হয়। তবে সাভার মডেল থানা পুলিশ ভবনের নিচে অবস্থান করছিল। 

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।


জাতীয় এর আরও খবর