img

তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত ‘রূঢ় ও অহংকারী’: বীণা সিক্রি

প্রকাশিত :  ১৮:০৩, ১৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪১, ১৮ আগষ্ট ২০২৬

তারেক রহমানের সফর নিয়ে ঢাকার শর্ত ‘রূঢ় ও অহংকারী’: বীণা সিক্রি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি যুক্ত করায় বাংলাদেশের সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক অবস্থানকে তিনি ‘অত্যন্ত রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা বিস্ময়কর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ধরনের মন্তব্য প্রকাশ করেছে, তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অনভিপ্রেত। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব সম্পর্কে ঢাকার আন্তরিকতার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।

সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মনে করিয়ে দেন যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদিই প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের প্রত্যাশা ছিল তিনি প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে নয়াদিল্লিকেই বেছে নেবেন। কিন্তু ছয় মাস পার হয়ে গেলেও ঢাকা সেই আমন্ত্রণের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। এমনকি কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া দ্বিতীয় আমন্ত্রণের বিষয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর দাবিকে রাজনৈতিক সফরের শর্ত হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে বীণা সিক্রি বলেন, ‘প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশ সরকার এটি ভালো করেই জানে। তাহলে কি তারেক রহমান আগামী কয়েক বছর ভারতে আসতে চান না?’ তিনি আরও যোগ করেন, দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতির একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। সেই সুযোগটি কাজে না লাগিয়ে এ ধরনের অযৌক্তিক ও অপেশাদার শর্তারোপ করা সম্পূর্ণ অনাবশ্যক ও অ-কূটনৈতিক আচরণ।

উল্লেখ্য, গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম জানিয়েছিলেন, সফরের পরিবেশ তৈরির জন্য শেখ হাসিনাসহ পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়া সফরের পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে বলেও ঢাকা দাবি করেছিল।

তবে ভারত সরকার ইতিমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে, ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং এটি একটি বেসরকারি মিডিয়া আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। বীণা সিক্রি মনে করেন, দুই দেশের সরকার যখন সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালাচ্ছে, তখন এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক প্রচার কূটনৈতিক সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে। তার মতে, বাংলাদেশ যদি গুরুত্বের সঙ্গে এই সফরটি সম্পন্ন করতে চায়, তবে এ ধরনের 'কৌশল' বাদ দিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় মন দেওয়া উচিত।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে তার একটি উন্মুক্ত প্রেস অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দৃশ্যমান হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুনরায় হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর দাবি তোলে এবং বিষয়টি তারেক রহমানের সফরের সঙ্গে যুক্ত করার ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় অবিলম্বে ফেরত দিতে এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের হস্তান্তরের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে, ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম নিশ্চিত করেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ চলমান থাকলেও কোনো চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বঙ্গোপসাগরে মায়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে ফেরত আনলো বিজিবি

প্রকাশিত :  ১১:৩৯, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

ঢাকা, ১৯ আগস্ট, ২০২৬: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতায় মায়ানমারের আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জন জেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

আজ ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যলাইন এলাকায় আরাকান আর্মির নিকট থেকে ২৪ জন বাংলাদেশি জেলেকে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়। দেশে ফিরিয়ে আনা জেলেদের পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কার্যক্রম স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয়ে চলমান রয়েছে। পরিচয় নিশ্চিতকরণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে এসব জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মায়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাদেরকে মায়ানমারের আরাকান আর্মি আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আটক জেলেদের মায়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আটক রাখা হয়। আটক জেলেদের পরিবারের উদ্বেগ ও মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে বিজিবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় আটক জেলেদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়।

বিজিবির এ মানবিক উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা জেলেদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আটক জেলেদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক অগ্রগতি। অবশিষ্ট আটক জেলেদেরও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মানবিক সংকট মোকাবিলায় পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, \"বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক\"—বিজিবি মহাপরিচালকের এই ভিশন বাস্তবায়নে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিজিবি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবির এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি