img

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৬:৪৯, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশী উদ্ধার

গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলে দুটি নৌযান থেকে ৭৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। দক্ষিণ ক্রিটের কালিলিমেনেস বন্দরের কাছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ড্রোন নৌযান দুটির অবস্থান শনাক্ত করার পর উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের পাশাপাশি অন্তত দুই নারী ও দুই শিশুও রয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দক্ষিণ ক্রিটের কালিলিমেনেস বন্দরের আশপাশে অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

গ্রিসের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, সমুদ্রে দুটি নৌকার অবস্থান শনাক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি ড্রোন। পরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে নৌকা দুটিতে থাকা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের নাগরিকও রয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে গ্রিসের এএনএ নিউজ এজেন্সি ৮৫ জনকে উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছিল। পরে দেশটির কোস্টগার্ড প্রকৃত সংখ্যা ৭৯ জন বলে নিশ্চিত করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিট ও কাছের গাভদোস দ্বীপ গ্রিসে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। লিবিয়ার উপকূল থেকে গাভদোসের দূরত্ব প্রায় ৩২০ কিলোমিটার।

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন গত এক বছরে কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ গ্রিসে পৌঁছালেও পরবর্তী ১২ মাসে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৪২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। এতে এক বছরে আগমন প্রায় ৩১ শতাংশ কমেছে।

এদিকে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে লিবিয়ার মতো ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গেও সহযোগিতা বাড়ানো হয়েছে।

গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিসও অবৈধভাবে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীদের প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের বিষয়েও জার্মানিসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে গ্রিস।


জাতীয় এর আরও খবর

img

শ্রীমঙ্গলে বসতবাড়ি থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৯:৫৮, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য শ্রীমঙ্গলের পুর্বাসা আবাসিক এলাকার একটি বসতবাড়ি থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে গোপাল ও গৌতম গোস্বামীর বাসা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা সাপটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে নাহিদ নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে জানান, এটি শঙ্খিনী—বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ। পরে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা সাপটি পরবর্তী সময়ে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, শঙ্খিনী অত্যন্ত বিষধর হলেও সাধারণত মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায়। তাই বসতবাড়িতে এ ধরনের সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত না হয়ে সাপটিকে বিরক্ত না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল বা বন বিভাগকে খবর দেওয়া উচিত।

তবে শ্রীমঙ্গলে বিষধর সাপের লোকালয়ে চলে আসার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। শহর, আশপাশের এলাকা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রায় প্রতিদিনই অজগরসহ বিভিন্ন বিষধর সাপ উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও খাদ্যের সংকট তৈরি হচ্ছে। এ কারণে বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে বিষধর সাপ ও অজগরের মতো সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসছে বলে তাঁদের ধারণা।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ‘ বিষধর শঙ্খিনীসহ অজগর সাপ লোকালয়ে আসছে, নাকি আমরা বনের ভেতরে ঢুকে পড়ছি?\'

জাতীয় এর আরও খবর