img

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার সিন্ডিকেটও ফ্যাসিস্টদের হাতে তুলে দিয়েছে সরকার: জামায়াত

প্রকাশিত :  ১৫:৫৯, ২৩ আগষ্ট ২০২৬

মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার সিন্ডিকেটও ফ্যাসিস্টদের হাতে তুলে দিয়েছে সরকার: জামায়াত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার একটি সিন্ডিকেট ও ‘ফ্যাসিস্টদের’ হাতে তুলে দিয়ে সরকার দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছে এবং প্রবাসী কর্মীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর সিদ্ধান্তে নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে দলের পক্ষে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। 

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমবাজার নিয়ে সরকারের একটি মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। 

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের পরিবারকে স্বচ্ছল করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে দেশটিতে অবস্থান করা রেমিটেন্স যোদ্ধারা। তাদের স্বার্থরক্ষা করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, হয়রানি বন্ধ ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশে সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সম্প্রতি দেশের বাইরে শ্রমশক্তি পাঠানোর মাধ্যম কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সিন্ডিকেটের আওতায় এনে সরকারের একটি অসাধু চক্র দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে। এতে করে বায়রার সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও  ব্যাপক উদ্বেগ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। আমি সরকারের বৈদেশিক রেমিটেন্স যোদ্ধা ও নাগরিকদের স্বার্থবিরোধী এমন সব সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত দুই দিন আগে দুই দেশের সরকার (মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ) মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে কার্যত একটি সিন্ডিকেটভিত্তিক শ্রমবাজার ব্যবস্থা তৈরি করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। অতীতেও সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে সিন্ডিকেট গঠনের ফলে সাধারণ শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এবারও আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থার কারণে একজন শ্রমিকের মালয়েশিয়া যেতে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা একজন সাধারণ শ্রমিক ও তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত বড় বোঝা হবে। এমতাবস্থায় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের স্বার্থ রক্ষা, কম খরচে বিদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ ও নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ সরকারকে জোরালো ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দুই হাজারের অধিক বেশি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি রয়েছে। এজন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিশেষ ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে গঠিত সিন্ডিকেট ভাঙতে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সদস্য  এবং  ভালো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির  জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করে  প্রতারণা বন্ধ, হাজারো সাধারণ শ্রমিককে সম্ভাব্য শোষণ, অতিরিক্ত ব্যয় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করতে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। যাতে করে কম খরচে নাগরিকরা বৈদেশিক শ্রমবাজারে যেতে পারে এবং পরিবারের স্বচ্ছলতা আনয়ন ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। 

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ও স্বল্প খরচে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা, নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপত্তা বিধান ও প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করাই বৈদেশিক ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রধানতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু মন্ত্রণালয়টির কর্তা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সিন্ডিকেটের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা উদ্বেগজনক। অবিলম্বে সরকারকে জনস্বার্থের পরিপন্থী সকল কার্যক্রম থেকে সরে এসে নিরাপদ বৈদেশিক শ্রমবাজার নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:৪১, ২৩ আগষ্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। 

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর তিনি নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে পারেন। পরে তার সানফ্রান্সিসকো যাওয়ারও কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য নয় দিনের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে। সফরসঙ্গীদের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পাঠানো একটি নোট ভার্বালের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানান, সরকারপ্রধান হিসেবে এবারই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। 

অধিবেশনের মূল পর্বে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সাইডলাইনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।

এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তার সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে দ্বিপক্ষীয় সফরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চললেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী শুক্রবার রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় সানফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর