img

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

প্রকাশিত :  ১৩:৫০, ২০ আগষ্ট ২০২৬

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পরই রিজভীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলো। 

বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭। খ)৬) ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পরপরই মির্জা ফখরুল ইসলাম দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পদত্যাগ করায় বিএনপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মহাসচিব পদটি শূন্য ছিল। 

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রুহুল কবির রিজভী আহমেদের পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ এবং ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

রাজনীতিতে জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর রুহুল কবির রিজভী বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তীকালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার পর তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। 

১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে ‘পারস্পরিক আস্থা’ অর্জনের পর: হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত :  ১৩:৫২, ২০ আগষ্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনি জানান, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন থাকলেও সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ ও ঐকমত্য ছাড়া বাংলাদেশ এই মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো না করার নীতি গ্রহণ করেছে। 

গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন। 

সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নতুন আন্তর্জাতিক জোটের সমীকরণ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক, মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু, পররাষ্ট্রনীতির মূল অগ্রাধিকারগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। 

পারস্পরিক আস্থা ও ভারত সফর

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত খবরগুলোকে জল্পনা-কল্পনা আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরগুলো ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শীর্ষ পর্যায়ের সফরের বিষয়টি ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতাকে প্রতিবেশী দেশকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সাথে ভারত কী ধরনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে চায়— তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ সফর করার কোনো যুক্তি নেই। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় দেশের ঐকমত্য এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া ছাড়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ। 

‘শেখ হাসিনাকে স্পেস দেওয়া গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থি’

বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রচারমাধ্যমে স্পেস দেওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অপরাধী হিসেবে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে সেখানে রাজনৈতিক কিংবা মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো অস্থিতিশীল তৎপরতা চালানো কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, সন্ত্রাসী বা খুনিকে স্পেস দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী দিল্লি এটিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে না। সেইসাথে তা কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে জাস্টিফাই করা যায় না। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার ইতোমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

আঞ্চলিক জোট ও কৌশলগত ভারসাম্য

বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যমূলক পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখছে বর্তমান সরকার। বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা ফ্রেমওয়ার্কে যুক্ত হওয়া নিয়ে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রিয়াদ সফর চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সাথে স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবে ওয়ার্কিং বাইল্যাটারাল রিলেশনশিপ, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি জোরদার করা হচ্ছে। 




জাতীয় এর আরও খবর