img

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বিএনপির নেতৃত্ব পুনর্গঠন, মন্ত্রিসভায় রদবদল?

প্রকাশিত :  ১৮:২৫, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বিএনপির নেতৃত্ব পুনর্গঠন, মন্ত্রিসভায় রদবদল?

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির দলীয় কাঠামো, মন্ত্রিসভা ও সংসদীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তার ছেড়ে দেওয়া দলীয় ও সরকারি দায়িত্বে কাদের আনা হবে, তা নিয়ে বিএনপি ও সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। 

দলীয় সূত্রের দাবি, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরপরই বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হতে পারে। একই সময়ে মন্ত্রিসভায়ও সীমিত পরিসরে রদবদল এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়ে রিজভীকে ঘিরে আলোচনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। এই পদে তাৎক্ষণিকভাবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলের ভেতরে একাধিক নাম আলোচনায় থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে সদ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া রুহুল কবির রিজভীর নাম।

বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, দলীয় কার্যালয় পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রিজভী। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

ফলে অন্তর্বর্তী সময়ে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হলে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের ছন্দপতন হবে না—এমনটাই মনে করছেন দলের একাংশের নেতারা।

তবে স্থায়ীভাবে পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, সেই প্রশ্নে আলোচনার পরিধি আরও বড়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেনের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে। দলীয় পুনর্গঠনের পর আগামী কাউন্সিলে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।

রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাদের কাজ করার জন্য নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত করেছেন। এ জন্য তিনি দলের চেয়ারম্যানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের ও দলের জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের আভাস

মহাসচিব পদে পরিবর্তনের পাশাপাশি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে থাকা হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আব্দুস সালাম আজাদের নাম এ পদে আলোচনায় রয়েছে।

একই সঙ্গে দপ্তর সম্পাদক পদেও নতুন মুখ আনার আলোচনা রয়েছে। এ পদে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, মুনির হোসেন, আবদুল লতিফ জনি এবং এবিএম মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসবে। আর এই পরিবর্তনকে ঘিরেই সরকারের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

সরকারের উচ্চপদস্থ দু’জন কর্মকর্তা জানান, মির্জা ফখরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ছয় মাসের কাজ পর্যালোচনা করে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে, রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা রদবদলের সম্ভাবনা কম।

দলীয় একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই নেতাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও আলোচনায় রয়েছে।

আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে রদবদলের আলোচনা

মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনায় শুধু স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই নয়, পররাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের নামও রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বর্তমান প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে।

এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসতে পারেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, শামসুজ্জামান দুদুসহ আরও কয়েকজন নেতা। কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের নামও মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

শরিকদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা

বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা মিত্র ও শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

এ ক্ষেত্রে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও  লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম নাম আলোচনা রয়েছে। 

গত ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি ও তাদের মিত্র-শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দেশের সামগ্রিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শরিকদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভায় শরিকদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সংসদ উপনেতা নিয়েও হিসাব

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে। ফলে সেখানে উপনির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার পরিবারের সদস্যদের নাম নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

একই সঙ্গে সংসদ উপনেতা কে হবেন, সেটিও পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, পুনর্গঠন বা রদবদল দল ও সরকারের ক্ষেত্রে রুটিন ওয়ার্ক। প্রয়োজনের তাগিদেই পুনর্গঠন বা রদবদল করা হয়। সরকারপ্রধান প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সে ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যসম্পাদনের মূল্যায়নও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা

প্রকাশিত :  ০৯:২৩, ২০ আগষ্ট ২০২৬

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। 

রাষ্ট্রপতি পদে অপর প্রার্থী হলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের অলি আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। দুপুর দুইটা থেকে শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার নিয়ম সংসদ সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে বিশেষ বৈঠকে তিনি এ নিয়ম জানান। নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন সিইসি।

এ সময় জাতীয় সংসদে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সিইসি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্রার্থী এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকদের নাম ঘোষণা করেন। পরে সংসদ সদস্যরা কীভাবে ভোট দেবেন, ব্যালট পেপার গ্রহণ ও তা ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। পরে ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে জমা দেবেন।

সিইসি জানান, ভোট গ্রহণ শেষ হবে বিকেল ৫টায়। এরপর ব্যালট গণনা শুরু হবে। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। তাদের ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ কক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বিএনপির রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংসদ সদস্য হওয়ায় এ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তার সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রথম ভোট হয়। এরপর সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। এবার দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে গত তিন দশক ধরে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই এককভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আলাদা প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংস্কৃতি ভেঙে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে এই পুরো নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি ৫ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন। ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।