img

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ শিক্ষক নিহত

প্রকাশিত :  ০৬:৩৯, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে বন্দুক হামলা, ৩ শিশুসহ শিক্ষক নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলায় তিন শিশু ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এ ঘটনায় হামলাকারী ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্যান্ড পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইক ক্রান্ট সাংবাদিকদের জানান, নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট ও ১১ বছর। নিহত অপর ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। পুলিশ জানায়, হামলাকারী ব্যান্ড শহরের বাসিন্দা, স্থানীয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
 
তিনি  বলেন, ‘আমরা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করেছি। সে ব্যান্ড শহরের ১৬ বছর বয়সী এক বাসিন্দা।’  তিনি আরো বলেন, ‘এক স্থানীয় বাসিন্দা সন্দেহভাজনকে স্কুলে ঢুকতে দেখেছিলেন। তিনি তার পিছু নিয়ে স্কুলের ভেতরে যান এবং তার মুখোমুখি হন।
ওই ব্যক্তির গুলিতেই সন্দেহভাজন আহত হয়।’

পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র শিলা মিলার জানান, একটি গাড়িতে গুলি চালানোর খবর পেয়ে পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে যায়। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্কুলের ভেতরে বন্দুকধারী থাকার খবর জানিয়ে একের পর এক জরুরি ফোনকল আসে।
 
এনডিটিভি জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে প্রথম ফোনকল পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
পরে তারা জানতে পারেন, হামলাকারী গুলিতে নিহত হয়েছে। সিএনএন ও সিবিএস নিউজও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে চারজন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে।

ব্যান্ড শহরের সিলভার রেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। সেখানে ৪০ জনের বেশি কর্মী কাজ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলার পর বিদ্যালয়টি বন্ধ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের বাসে করে অন্য একটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেখানে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।

একটি গির্জার কাছে নির্ধারিত ওই স্থানে সন্তানদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন অভিভাবকরা। তাদের একজন ড্রু শার্প সিবিএস নিউজকে বলেন, তার বিশ্বাস, ছেলে নিরাপদে আছে। শার্পের ছেলে বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি জানান, বাস থেকে প্রথমে ছোট শিক্ষার্থীদের এবং পরে বড় শিক্ষার্থীদের নামানো হচ্ছিল। এ কারণে অভিভাবকদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।

ব্যান্ড-লা পাইন স্কুল জেলার সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন কুক বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনায় জেলার কর্মকর্তারা হতবাক ও শোকাহত। তিনি নিহতদের পরিবার এবং হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানান। তার ভাষায়, এ ঘটনায় পুরো এলাকার মানুষ গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।

স্কুল জেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার জেলার সব স্কুলে ক্লাস বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সব ধরনের স্কুল কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজনও বাতিল করা হয়েছে। সিলভার রেল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পোর্টল্যান্ড শহর থেকে প্রায় ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা এখানে পড়াশোনা করে।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহজে পাওয়া যায়। দেশটিতে প্রায়ই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকের গুলিতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে ২০০৭ সালের ১৬ এপ্রিল। সেদিন ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শিক্ষার্থী সেউং-হুই চো ৩২ জনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় আহত হন আরো ১৭ জন। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেন।

বন্দুক সহিংসতার তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬০টির বেশি গণগুলির ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটি চার বা তার বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে গণগুলির ঘটনা হিসেবে গণনা করে।
 

বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন জিআইএফওআরডিএস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের এবং সন্তানদের নিরাপত্তার খবরের জন্য অপেক্ষা করা পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের সহিংসতাকে জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে আর মেনে নেওয়া যায় না।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বিকল্প পথে দেশে ফিরেছেন সৌদিতে আটকে পড়া ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রী

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার পথে আটকে পড়া পাবনার ঈশ্বরদীর ৫০ জন যাত্রী বিকল্প পথে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কাতার হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। দেশে ফিরতে প্রত্যেককে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা বিমানভাড়া গুনতে হয়েছে।

ওমরাহযাত্রীদের দলের মোয়াল্লেম মোহাম্মদ রায়হান জানান, মঙ্গলবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দুই দিন অপেক্ষার পর কাতার এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে বিকল্প পথে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় সৌদি আরবে থাকার ব্যবস্থা নিয়েও সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। রায়হান বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত তাদের থাকার জন্য আগে থেকে চুক্তি করা ছিল। এরপর নতুন করে আবাসনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নারী, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। এ সময় কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার জানান, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব গিয়েছিলেন। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেই বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পরে জনপ্রতি অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা খরচ করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেন তারা।

ওমরাহযাত্রী জায়েদ আল-সামি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় সৌদি আরবের মদিনা বিমানবন্দর থেকে কাতার এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তারা যাত্রা শুরু করেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাংলাদেশে পৌঁছান।

ঈশ্বরদীর সাঁড়া গোপালপুর বকশিরচকের শাহ্ পাড়ার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন শাহ্ বলেন, ৫০ জনের ওই দলে ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী কয়েকজন নারী-পুরুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় দেশে থাকা স্বজনেরা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সবাই নিরাপদে দেশে ফেরায় এখন স্বস্তি ফিরেছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা নিরাপদে দেশে ফিরেছেন।

জাতীয় এর আরও খবর