ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) নতুন খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়নের জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রস্তাবিত বিধান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সহকারী প্রকৌশলী পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শাখাভিত্তিক অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোটা আরোপের পেছনে এই কমিটির বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএডিসির প্রকাশিত অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, বিএডিসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০ এবং বিএডিসি আইন, ২০১৮ পর্যালোচনা করে নতুন খসড়া প্রবিধানমালা প্রস্তুতের জন্য সদস্য পরিচালক (অর্থ)-কে আহ্বায়ক করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে সচিব, প্রধান (মনিটরিং), হিসাব নিয়ন্ত্রক, প্রধান প্রকৌশলী (সেচ), প্রধান সমন্বয়কারী (গবেষণা সেল), উপপরিচালক (আইন) এবং সদস্য সচিব হিসেবে যুগোপপরিচালক (সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়নে এই কমিটির ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হলেও তারা মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও সমতার নীতি উপেক্ষা করে বৈষম্যমূলক কোটা প্রস্তাব করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৯৯০ সালের প্রচলিত প্রবিধানমালার সঙ্গে প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের প্রবিধানমালার তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, আগে সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কৃষি, পুর (সিভিল), পানি সম্পদ, যন্ত্র ও তড়িৎ প্রকৌশলের জন্য কোনো শাখাভিত্তিক কোটা ছিল না। সব শাখার দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক ডিগ্রাধারীরা সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ পেতেন।
অথচ খসড়া প্রবিধানমালা প্রণয়ন কমিটি নতুন প্রস্তাবে কৃষি প্রকৌশলে ৪৫% এবং পুরকৌশলে ৩০% কোটার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, পানি সম্পদ, যন্ত্র ও তড়িৎ প্রকৌশলের মতো তিনটি স্বতন্ত্র ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল ডিসিপ্লিনকে একত্রে মাত্র ২৫% কোটায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কমিটিতে সমন্বিত পর্যালোচনার অভাব এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একপেশে মনোভাবের কারণেই এ ধরনের সুযোগের অসম বণ্টন তৈরি হয়েছে। বিএডিসির বহুমাত্রিক কার্যক্রমে প্রতিটি প্রকৌশল শাখারই নিজস্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনটি ভিন্ন শাখাকে একসাথে মাত্র ২৫% কোটা দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে সংকুচিত করবে, যা প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্যপূর্ণ জনবল কাঠামো এবং ভবিষ্যতে পদোন্নতির ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও কোটা সংস্কারের মূল ভাবনার সঙ্গে কমিটির এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীরা। তাঁদের মতে, প্রবিধানমালা প্রণয়ন কমিটি বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং অযৌক্তিক বিশেষ সুবিধার পথ তৈরি করেছে।
এ অবস্থায় প্রবিধানমালা প্রণয়ন কমিটির প্রস্তাবিত ৪৫%/৩০%/২৫% কোটা বণ্টনের বিতর্কিত সুপারিশটি অবিলম্বে বাতিল ও পুনর্বিবেচনার জোর দাবি উঠেছে। ১৯৯০ সালের প্রবিধানমালার মতো নির্দিষ্ট কোটা ব্যতিরেকে সব প্রকৌশল ডিসিপ্লিনের যোগ্য প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, সমতা ও বৈষম্যহীন নিয়োগনীতি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।