img

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল

প্রকাশিত :  ০৭:২৯, ২৮ আগষ্ট ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪১, ২৮ আগষ্ট ২০২৪

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ বুধবার (২৮ আগস্ট) প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পতনের দ্বারপ্রান্তে এসে শেখ হাসিনার সরকার ১ আগস্ট জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘যেহেতু, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কয়েকটি মামলার রায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (পূর্বনাম জামায়াত-ই-ইসলামী/জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ) এবং উহার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে (পূর্বনাম ইসলামী ছাত্রসংঘ) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী হিসেবে গণ্য করা হইয়াছে।’

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘যেহেতু বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাতিল করিয়া দিয়াছে এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগের উক্ত রায়কে বহাল রাখিয়াছে। যেহেতু, সরকারের নিকট যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রহিয়াছে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উহার অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি এবং উসকানির মাধ্যমে জড়িত ছিল; এবং যেহেতু, সরকার বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সহিত জড়িত রহিয়াছে। সেহেতু, সরকার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিল। উক্ত আইনের তফসিল-২ এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ উহার সকল অঙ্গ সংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্ত্বা হিসাবে তালিকাভুক্ত করিল।’

জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের বিষয়ে দলটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তা প্রত্যাহার করেছে সরকার। আজই গেজেট প্রকাশ হবে।

তিনি জানান, এখন নিবন্ধন ফিরে পেতে আইনি লড়াই শুরু করা হবে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ভিন্ন দিকে নিতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার।


জাতীয় এর আরও খবর

img

বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেলে ২৫% ছাড়

প্রকাশিত :  ১৪:৪৭, ২৫ মে ২০২৬

মেট্রোরেলের ভাড়ায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়া শুরু করেছে সরকার। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সি এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা এককযাত্রার ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন।

প্রবীণদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র দেখিয়ে এ সুবিধা নেওয়া যাবে।

আজ সোমবার (২৫ মে) ঢাকার ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন বলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করতে কাজ করছে। প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ ও সম্মানজনক করতে এই বিশেষ ভাড়া ছাড় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। 

মেট্রো রেলের পাশপাশি বাংলাদেশ রেলওয়েও প্রবীণ যাত্রীদের জন্য ২৫ শতাংশ ছাড়ে টিকিট কেনার সুযোগ দিয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রবীণ যাত্রীরা অনলাইন ও কাউন্টার—উভয় মাধ্যম থেকেই ২৫ শতাংশ ছাড়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বয়স যাচাই করা হবে। তবে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য থাকবে।

আর, প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য আন্তনগর ট্রেনের সুলভ ও শোভন শ্রেণিতে বিদ্যমান ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড় বহাল থাকবে। পাশাপাশি সব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে নতুন করে ২৫ শতাংশ ছাড় কার্যকর করা হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর