img

মারাত্মক যৌন বিকারগ্রস্ত ইসকন নেতা চিন্ময় নিয়মিত শিশু নিপীড়ন করতেন

প্রকাশিত :  ২০:১৭, ২৭ নভেম্বর ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ২১:০৯, ২৭ নভেম্বর ২০২৪

মারাত্মক যৌন বিকারগ্রস্ত ইসকন নেতা চিন্ময় নিয়মিত শিশু নিপীড়ন করতেন

শিশুদের যৌন নিপীড়নের দায়ে ২০২৩ সালে ইসকন নেতা ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর উপর সাময়িক বিধিনিষেধও দেয় যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ইসকন ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড প্রটেকশন অফিস। এমন একটা চিঠি একুশে টেলিভিশনে হাতে এসেছে। 

ওই চিঠি থেকে জানা গেছে, ইসকন নেতা ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী একজন ‘যৌন বিকারগ্রস্ত’ মানুষ।  পুণ্ডরীক ধামের ছেলেশিশুদের তিনি নানাভাবে যৌনি নিপীড়ন করেন। 

এছাড়া সম্প্রতি একুশে টেলিভিশনের হাতে এমন কিছু ভিডিও ফুটেজ এসেছে। যাতে দেখা যায়, শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চিন্ময় ব্রহ্মচারীর  অন্তরঙ্গ কিছু দৃশ্য। 

জানা গেছে, এসব শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় নানা ছলে রুমে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করেন চিন্ময় ব্রহ্মচারী।     

এদিকে ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর ইস্যু করা ইসকন ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড প্রটেকশন অফিসের ওই চিঠিতে শিশু নিপীড়নের অপরাধে তার উপর সাময়িক বিধিনিষেধের পাশাপাশি কিছু সময়ের জন্য ধর্মীয় কীর্তন করতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তাকে শিক্ষাদানেও বিরত থাকতে বলা হয়। 

ইসকন ও চিন্ময় ব্রহ্মচারীর অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে সম্প্রতি একুশে টেলিভিশন বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর ফলে ক্ষিপ্ত হন চিন্ময় ব্রহ্মচারীর সমর্থক গোষ্ঠী। তারা একশে টেলিভিশনকে হলুদ মিডিয়া বলে অভিহিত করেন। 

অন্যদিকে গত ৫ আগস্টের পর নানা কর্মকাণ্ডে ইসকনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তিনি নানা অনিয়ম আর অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন ইসকনের বিরুদ্ধে। তিনি ইসকনের দেশবিরোধী তৎপরতা নিয়ে অভিযোগ করেন। 

এতে ক্ষিপ্ত হন ইসকন নেতা চিন্ময় ব্রহ্মচারী ও ইসকন সমর্থকরা। মাহমুদুর রহমানের ওই বক্তব্য প্রত্যাহার ও তাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চোইতে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলেন চিন্ময় ব্রহ্মচারী। তবে এরপর ওই বিষয়ে চিন্ময় ব্রহ্মচারী ও ইসকনের কাউকে আর কথা বলতে শোনা যায়নি।  

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

সড়কের পাশে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ০৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ। প্রতিদিনের মতো সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। 

সেই দৃশ্য লক্ষ্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেই আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন। 

বুধবার (০৮ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর হাতে কিছু উপহারও তুলে দেন। 

এ সময় আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। গত আটমাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। এর আগে তিনি গাড়ি চালাতেন। স্ট্রোক করার পর তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে এই সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিনই বিরতিহীন সকাল ৮ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা কাজ করেন তিনি।

সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরনো থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেয়ার জন্য উপহার দিয়ে পাঠান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী আমার জানের টুকরা। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই। তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে সবদিনই হেসে সালাম দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাসি দেখলে আমার মন জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।’

একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ এর আরও খবর