img

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৭:৩৬, ০৮ জুন ২০২৫

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে সোমবার (৯ জুন) ঢাকা ত্যাগ করবেন আন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের এই সফরে মূল এজেন্ডা হিসেবে থাকছে যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের আগে এমন কূটনৈতিক সফরের কার্যকারিতা সীমিত হতে পারে।

১০ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত অধ্যাপক ইউনূসের এই সফর চলবে। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম ইউরোপ সফর। সরকারি এই সফরে তিনি ১১ জুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন। ১২ জুন তিনি দেখা করবেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি এই সফরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা হবে। তবে এ নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে কতটা অগ্রগতি সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক রাশেদ চৌধুরী বলেন, \'যতদিন পর্যন্ত একটি নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় না আসে, ততদিন পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগকে গুরুত্ব দেবে না বলেই মনে করি। ইউনূস সাহেবের সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা কিছুটা নড়বড়ে হয়েছে।\'

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য সব সময় গণতন্ত্রে আস্থাশীল এবং তারা চায় বাংলাদেশেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি স্থায়ী সরকার গঠিত হোক। \'যুক্তরাজ্য সরকার বিশ্বাস করে, নির্বাচিত সরকার ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান আসতে পারে না। বর্তমান অবস্থা তাদের কাছে সাময়িক বা অন্তর্বর্তী হিসেবেই বিবেচিত,\' বলেন রাশেদ চৌধুরী।

তবে এই সফরে সম্মানজনক একটি প্রাপ্তিও রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার জন্য। ১২ জুন সেন্ট জেমস প্রাসাদে রাজা তৃতীয় চার্লসের হাত থেকে কিংস চার্লস হারমনি অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করবেন অধ্যাপক ইউনূস। বিষয়টিকে গৌরবজনক বলে উল্লেখ করেছেন সাবেক কূটনীতিকরা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

পল্লবীতে নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দায় স্বীকার

প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই দিনে মামলার অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, দুপুর সোয়া তিনটার দিকে কড়া নিরাপত্তায় সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজন তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশের তদন্ত ও আবেদন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মূলত মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা সম্ভব হলেও, অন্য একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে যখন ওই ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, তখন সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যিনি স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সেখান থেকে চলে যান।


জাতীয় এর আরও খবর