img

দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ লন্ডনে

প্রকাশিত :  ০৯:৪৪, ১৩ জুন ২০২৫

দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ লন্ডনে

|| মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার ||

লন্ডন, ১৩ জুন: বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির নতুন চেহারা বিনির্মানের চেষ্টা হচ্ছে আজ শুক্রবার সকালে লন্ডনে। 

দেশ এবং দেশের বাইরের সর্বত্র সব বাঙালীর চোখ এখন পশ্চিম লন্ডনের পার্ক লেইনে অবস্থিত হোটেল ডরচেস্টারের দিকে। এখানে শুক্রবার সকাল নয়টায় বৈঠকে বসছেন দেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ড. ইউনুস ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

বৃহস্পতিবার দুই নেতার প্রতিনিধিবৃন্দ নিজ নিজ নেতাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে শুক্রবারের বৈঠক নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা সেরে নিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতেই শুক্রবার বিদেশের মাটিতে হতে যাচ্ছে দেশের রাজনীতির খোল-নলচে বদলে ফেলার চেষ্টা।

দু’পক্ষ থেকেই শীর্ষ-বৈঠকের আগে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল আলোচনা ইতিবাচক, এই ধারণা পাওয়া গেছে। 

ড. ইউনূসের পক্ষ থেকেই বিএনপির এই মুহূর্তের প্রধান নেতার সাথে লন্ডন বৈঠকের আগ্রহ জানানো হয়েছিল।

দেশে অস্থায়ীভাবে ক্ষমতাসীন একটি সরকারের প্রধান ড. ইউনুস এই বৈঠক থেকে কী অর্জন করতে চান? বিশ্লেষণ বলছেঃ যেসব লক্ষ্য নিয়ে তিনি গভীর আত্মবিশ্বাসের সাথে তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে বসছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

১। ভারতের অনুমিত প্রভাববলয় থেকে বিএনপিকে নিউট্রালাইজ করা; 

২। আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপির কোন রকমের সমঝোতা সুকঠিন প্রতিবন্ধকতা দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা; 

৩। বহুল আলোচিত জুলাই সনদে বিএনপির স্বাক্ষর নিশ্চিত করে এই আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সকলকে জাতীয় বীর হিসেবে সাংবিধানিক ঘোষণা দেয়া; তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ভূষিত করা ও এভাবে আগামীর জন্যে তাঁদের সর্বপ্রকার নিরাপত্তার বিধান করা;

৪। জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করলে এখন এবং আগামীতে কেউ রাজনীতি করতে পারবেন না এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন ও প্রতীক পাবেন না; 

৫। জুলাই সনদে সব দলের নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষর নিয়ে গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সর্বসম্মতভাবে সংবিধানের অপরিবর্তনীয় অংশ করা, যা আগামীতে কেউ কোনোভাবেই বদলাতে পারবেন না;

৬। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল ও সরকারের নীতিনির্ধারক প্রতিজনের বিচার প্রক্রিয়া অতি অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে নিষ্পন্ন করা; 

৭। বর্তমান সংবিধানের পরিবর্তে জুলাই সনদের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ‍্যে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণপরিষদ নির্বাচনের আয়োজন করা; 

৮। ধরে নেয়া হচ্ছে, আগামী সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন করবে বিএনপি;  তাই বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সকলের নিরাপদ প্রস্থান, তাঁদের সব ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে সর্বপ্রকার দায়মুক্তি এবং দেশের অভ্যন্তরে তাদেরকে সার্বক্ষণিক পূর্ণ কার্যকর নিরাপত্তা প্রদান বিষয়ে আগামীর বিএনপি সরকারের সাথে চুক্তি। 

ড. ইউনূসের প্রত‍্যাশাঃ বিএনপি এই মুহুর্তে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল, তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলে সেখান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ তাদের থাকবে না। তাদের পিছিয়ে আসার কোন কারণও নেই। অন‍্য দলগুলোও স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সনদে স্বাক্ষর করবে। এই দলগুলোই থাকবে রাজনীতির মাঠে। জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এখন থেকে পরিচালিত হবে বাংলাদেশের রাজনীতি। 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশা করছেন, এদের হাতেই নির্মিত হবে নতুন বাংলাদেশ, ২৪-এর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কোনো স্থান নেই।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে কারা মনোনয়ন পাবেন, জানালেন রিজভী

প্রকাশিত :  ০৮:২৫, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে বিএনপি। দলটি জানিয়েছে, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা থাকা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় এ কথা জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়াপল্টন কার্যালয় থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, আগামী রোববার (১২ এপ্রিল) পর্যন্ত বিতরণ করা হবে। ফরম নিতে ২ হাজার টাকা এবং জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হবে।

রিজভী বলেন, মনোনয়নের বিষয়টি দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। যারা গত ১৬ থেকে ১৭ বছর নিপীড়ন ও নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা থাকবে। বিগত আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সংসদে কথা বলার যোগ্যতাসহ অন্যান্য যোগ্যতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রাণবন্ত আলোচনা চালু রাখতে হবে। এটাই গণতন্ত্রের আসল শক্তি।

আগামী ১২ মে ভোটের দিন নির্ধারণ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তফশিল ঘোষণা করেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

জাতীয় এর আরও খবর