প্রকাশিত :
০৬:৫৮, ১৬ জুলাই ২০২৫ সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৮, ১৬ জুলাই ২০২৫
এনসিপির কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার পর গোপালগঞ্জ সদরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাড়ি বহরে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
আজ বুধবার সদর উপজেলার গান্ধীয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান।
ইউএনও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রার কথা রয়েছে তাদের। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থক কর্তৃক সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় তার গাড়ি বহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে সকালের দিকে এনসিপি কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগায় ও ভাঙচুর করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী
প্রকাশিত :
১৬:১১, ১৭ মে ২০২৬
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামন বলেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া বা অন্যান্য বিচারপতিদের অবসরের পর আইন কমিশনসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ পেতে কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। তারা অবসরের পর হিসাব কষা শুরু করেন।
এ সময় প্রস্তাবিত নতুন আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব বা সীমাবদ্ধ করা হবে না, বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটি আমরা সঠিক বিবেচনা থেকেই বাদ দিয়েছি। কোনো পাবলিক পলিসি বা আইনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সব ইনস্ট্রুমেন্ট উল্লেখ করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। এটি আইনের কার্যকারিতা বা ইনফোর্সমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় বা দুর্বলতা তৈরি করবে না।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বাছাই কমিটিতে থাকতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। বিচারিক কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তারা অপরাগতা প্রকাশ করছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটির জন্য আমরা দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠিয়ে রেখেছি, কিন্তু উনাদের ব্যস্ততার কারণে এখনো কমিটিই গঠন করা সম্ভব হয়নি।’
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘আমরা পার্লামেন্ট বা আইন মন্ত্রণালয়কে একেবারে উপেক্ষা করতে পারি না, কারণ এগুলো একেকটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। তবে আপনারা যদি এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প ও নিরপেক্ষ মেকানিজম বা পদ্ধতির প্রস্তাব দেন, আমরা অবশ্যই তা বিবেচনা করব।’
সভায় গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন একজন প্রতিনিধি। এই উদ্বেগের জবাবে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘বাহিনী প্রধানের রিপোর্ট যদি কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে কমিশন তার নিজস্ব ক্ষমতাবলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া কোনো বাহিনীর প্রধান যদি তার অধীনস্থ কাউকে বাঁচাতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন, তবে তাকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে, যা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি পরিণতি ডেকে আনবে।’
গুমসংক্রান্ত বিষয়ে আইনের খসড়া নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুম বিষয়ক যে অধ্যাদেশটি আনা হয়েছিল, তাতে অপরাধীরাই বেশি সুযোগ পেতো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন খুব শিগগিরই জনগণের সামনে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এক ধরণের রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। সন্ধ্যা বা রাতের বেলা মোমবাতি জ্বালিয়ে তড়িঘড়ি করে ১০ থেকে ২০ জন সাক্ষী নিয়ে এক রাতেই সাজা দেওয়ার নজির তৈরি করা হয়েছিল, যা স্পষ্টতই মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।