img

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার সাত দফা প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার সাত দফা প্রস্তাব

দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র শান্তিপূর্ণ সমাধান হলো তাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আজ সংকট নিরসনে সাত দফা পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে রাখাইন রাজ্যে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে দেওয়া এ বক্তব্যে তিনি রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আট বছর পেরিয়ে গেলেও রোহিঙ্গাদের দুর্দশা শেষ হয়নি। আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ দুর্বল এবং তহবিল ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে। এই সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে—তাদের সমাধানও সেখানেই নিহিত। তাই মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের নির্যাতন বন্ধ এবং দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংকটের একমাত্র সমাধান হলো রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন।

বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই সংকটের কারণে বাংলাদেশকে বিশাল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবাহসহ নানা অপরাধ জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন:

১. নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি ও রাখাইনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

২. মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর চাপ প্রয়োগ করে সহিংসতা বন্ধ ও প্রত্যাবাসন শুরু করা।

৩. রাখাইনে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড় এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ।

৪. রোহিঙ্গাদের রাখাইন সমাজ ও শাসন ব্যবস্থায় টেকসই একীভূতকরণের জন্য আস্থা তৈরির পদক্ষেপ।

৫. যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা (Joint Response Plan) পূর্ণ অর্থায়নে দাতাদের সমর্থন।

৬. জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

৭. মাদক অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া ও সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব আর রোহিঙ্গাদের অপেক্ষায় রাখতে পারে না। আজ আমাদের অঙ্গীকার করতে হবে—একযোগে কাজ করে এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান করতে হবে। বাংলাদেশ এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।


জাতীয় এর আরও খবর

img

পল্লবীতে নৃশংসভাবে শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানার দায় স্বীকার

প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ২০ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে, সোহেল রানা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান। পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে সোহেল রানা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

একই দিনে মামলার অন্য আসামি স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, দুপুর সোয়া তিনটার দিকে কড়া নিরাপত্তায় সোহেল রানাকে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত লোকজন তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পুলিশের তদন্ত ও আবেদন সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিশুটি রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে স্কুলে নেওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং অন্য একটি কক্ষে বালতির ভেতরে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মূলত মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়েছিল। ঘটনার পরপরই ওই ফ্ল্যাট থেকে স্বপ্না আক্তারকে আটক করা সম্ভব হলেও, অন্য একটি কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুটিকে যখন ওই ফ্ল্যাটে নেওয়া হয়েছিল, তখন সেখানে তৃতীয় একজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন, যিনি স্বজনরা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই সেখান থেকে চলে যান।


জাতীয় এর আরও খবর