img

ড. ইউনূসের জাতিসংঘ সফর: যে ৬ সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

প্রকাশিত :  ১৬:৫৯, ০৩ অক্টোবর ২০২৫

ড. ইউনূসের জাতিসংঘ সফর: যে ৬ সাফল্যের কথা তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সফরকালে তিনি বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের ৬ নেতাসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

এ সময় তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন, বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবিক নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিশন তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ সফরের উল্লেখযোগ্য ছয় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসে তিনি যে ছয় সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তা নিম্নরূপ-

১. গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতির বার্তা

সাধারণ পরিষদের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে। জনগণ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে এই আশ্বাস ছিল বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার অঙ্গীকার।

প্রধান উপদেষ্টার সফরে বাংলাদেশের ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এটিই প্রথমবার যখন বিভিন্ন দলের এমন এক বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল একসঙ্গে বিদেশ সফরে গেলেন। তারা কূটনীতিক, প্রবাসী নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। এ উদ্যোগ বিশ্বকে বার্তা দিয়েছে যে- বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগোচ্ছে।

২. বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে কৌশলগত সংলাপ

সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যেখানে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, বাণিজ্য, জলবায়ু সহনশীলতা ও মানব উন্নয়ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। তিনি ইতালি, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আলবেনিয়া, কসোভো ও ভুটানের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়া তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস, শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্দি, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা এবং আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠক করেন।

ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত এক নৈশভোজেও যোগ দেন, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু নেতার সঙ্গে আলাপ হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গেও তার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের ভূমিকার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

৩. রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক নেতৃত্ব

প্রধান উপদেষ্টার সফরের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল রোহিঙ্গা সংকট। তিনি এক মিলিয়নেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশের নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরেন।

জাতিসংঘ ও দাতা দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন করে বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা আদায় করতে সক্ষম হন তিনি।

৪. এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিতে জাতিসংঘের স্বাধীন মূল্যায়ন আমন্ত্রণ

বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ও অগ্রগতির স্বচ্ছতা প্রদর্শনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাতিসংঘকে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি বিষয়ে স্বাধীন মূল্যায়ন করার আমন্ত্রণ জানান। এ আমন্ত্রণ বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসী অর্থনৈতিক যাত্রাপথ ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের প্রতি উন্মুক্ততার প্রতীক।

৫. নতুন অর্থনৈতিক কাঠামো ও কর্মসংস্থানের সুযোগ

সফরে বিদেশে কর্মসংস্থান ও শ্রম অভিবাসনের নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে যায়। কসোভো, আলবেনিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকে সেখানে বাংলাদেশি শ্রমশক্তির চাহিদা নিয়ে আলোচনা হয়। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন অংশীদার দেশের সঙ্গে জনসম্পর্ক মজবুত করবে।

৬. সহযোগিতামূলক ভবিষ্যতের ভিশন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অবস্থানকে আরেকবার পরিষ্কার করে দিয়েছে- বাংলাদেশ একটি দায়িত্বশীল বৈশ্বিক অংশীদার, যা গণতান্ত্রিক শাসন, মানবিক সংহতি ও গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


জাতীয় এর আরও খবর

img

আজ ৬ জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল ২৭ প্রাণ

প্রকাশিত :  ১৮:১১, ২৫ মে ২০২৬

ঈদের ছুটির প্রথম দিনেই দেশের ছয় জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে টাঙ্গাইলে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৫ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া, বগুড়ায় চারজন, কিশোরগঞ্জে তিনজন,  সিরাজগঞ্জে তিনজন, মানিকগঞ্জে একজন ও গোপালগঞ্জে একজন মারা গেছেন। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতিতে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার ভোর ৪টার দিকে মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ট্রাকে চেপে ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন।

কালিহাতি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইনচার্জ আতাউর রহমান ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন—টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের পরিচয় মিলেছে

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিবহন ভাড়ার খচর বাঁচাতে যাত্রীবাহী পরিবহনে না উঠে নিহতরা রডবোঝাই একটি ট্রাকের ওপর উঠে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে উল্টে পড়ে। এতে ট্রাকের ওপর থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই ১৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও অন্তত ছয়জন। দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করা হয়।

গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব খান বলেন, মালবাহী ট্রাকে যাত্রী পরিবহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

বগুড়া

বগুড়ার চারজন মারা গেছেন। এর মধ্যে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ আরও একজন গুরুতর আহত হন। সোমবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে কাহালু উপজেলার বীরকেদার ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—কাজীপাড়া এলাকার বাবুল তালুকদারের স্ত্রী জেসমিন খাতুন (৪৫) ও তার মেয়ে তণু আক্তার (২০)। আহত হয়েছেন—অটোরিকশাচালক শাওন মিয়া (১৮)। তিনি একই এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে অজ্ঞাত একটি যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালক বাবা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন—আনিছুর রহমান ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে পুষ্প। আহত আয়েশা বেগম নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী। আনিছুর রহমান রংপুরে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে কর্মরত ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে রংপুর থেকে গ্রামের বাড়ি পাবনায় যাচ্ছিলেন আনিছুর রহমান। সকাল সাড়ে ৬টার বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাত একটি যানবাহন সেটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই আনিছুর রহমান ও শিশু পুষ্পর নিহত হয়। গুরুতর আহত হন আয়েশা বেগম। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সকাল ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করেন।

বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত নারীকে উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অজ্ঞাত যানবাহনটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে পিকআপভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ছয় বছরের শিশু সন্তানসহ স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জের ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদের সড়কের মিঠামইন উপজেলার কাস্তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হচ্ছেন—মিঠামইন উপজেলার মহিষা কান্দি গ্রামের মনির হোসেন (৩৫), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও সন্তান আয়ান (৬)।

পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন মনির হোসেন। পথে মিঠামইন উপজেলার কাস্তল এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপভ্যান তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পিকআপভ্যানটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জনগণ সেটি আটক করে।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সোমবার বেলা ১১টায় বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড ও মশিপুর এলাকায় দুইজন মারা যান।

নিহতরা হলেন—পাবনার সাথিয়া উপজেলার হলুদঘর গ্রামের সবুজ প্রামাণিকের মেয়ে সারা খাতুন (৮) ও শাহজাদপুরের গাড়াদহ ইউনিয়নের আলমগীরের ছেলে আহম্মদ (৭)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার শাহজাদপুর উপজেলার বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি যাত্রীবাহী সিএনজির সঙ্গে লবণবোঝাই ভটভটির সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি যাত্রী সারা খাতুন ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আহতদের উদ্ধার করে শাহজাদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

এ ছাড়া, একই মহাসড়কের গাড়াদহ ইউনিয়নের মশিপুর গুচ্ছ গ্রামের আলমগীরের ছেলে আহম্মদ রাস্তা পারের সময় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাক এবং ভটভটি আটক করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে এক মোটরসাইকেলচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হেমায়েতপুর থেকে সিংগাইরগামী একটি নম্বরবিহীন অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা হেমায়েতপুরগামী নম্বরবিহীন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) ঘটনাস্থলেই মারা যান। তিনি সিংগাইর উপজেলার আঠালিয়া এলাকার মো. শহিদুল ইসলাম মোমেনের ছেলে। এ ঘটনায় অপর আরোহী মো. আরাফাতকে (১৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, নিহত কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

সোমবার দুপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সোনাশুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিচয় জানা যায়নি।

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কোটালীপাড়া স্টার এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে অপর একটি বাসকে ওভারটেক করতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পেছন থেকে একটি প্রাইভেটকারও সজোরে মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় এবং মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালক নিহত হন। এ ছাড়া, বাস ও প্রাইভেটকারের অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয় লোকদের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত ১৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর