img

ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক ঢাবি অধ্যাপক

প্রকাশিত :  ০৭:০৮, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৯, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

ছাত্রদের যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক ঢাবি অধ্যাপক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে পুরুষ শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত প্রায় ১১টার দিকে শেওড়া পাড়ায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, ড. এরশাদ হালিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। যেহেতু তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন না, তাই এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছে।

এর আগে রসায়ন বিভাগের কয়েকজন ছাত্র সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ড. এরশাদ হালিমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।

অভিযোগ রয়েছে— ড. এরশাদ পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্রদের সহায়তার আশ্বাস দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে আসতেন। সেখানে তিনি রুমের আলো নিভিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শারীরিক স্পর্শ দাবি করতেন, জোরপূর্বক শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করতেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক শিক্ষার্থী জানান,পরীক্ষাসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঐ অধ্যাপক তাকে একাধিকবার বাসায় ডেকে নেন এবং ঘরে একা পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ করেন। তিনি বাধা দিলে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ করেন। এ ঘটনার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না।

এছাড়াও ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে অভিযুক্ত ঐ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কথাও জানান  কয়েকজন ছাত্র। 

একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য সামনে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।

img

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩১০ বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ১৩:৫২, ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ৩১০ বাংলাদেশিকে। আজ শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা দেশে পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে। অনেকে লিবিয়ায় বিভিন্ন সময় অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে—লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সম্ভাব্য সকলের সাথে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেককে পথ খরচ, কিছু খাদ্যসমগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।