মানবতাবিরোধী অপরাধ

img

শেখ হাসিনার মামলার রায় পড়া শুরু

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৫, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

শেখ হাসিনার মামলার রায় পড়া শুরু

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় পড়া শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করবেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এই মামলায় পলাতক রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে মামুনকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিকে, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ-র‌্যাব, এপিবিএন-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমিত করা হয়েছে জনসাধারণের চলাচলও।

গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

শেখ হাসিনার এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। আর ৯ কার্যদিনে চলে প্রসিকিউশন-স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক পাল্টা যুক্তিখণ্ডন। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণে সময় দেওয়া হয়।

যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তার খালাস চেয়েছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখাঁরপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার ৫ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।


img

কাপ্তাই লেক দখলদারদের তালিকার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে যৌথভাবে জরিপ সম্পন্ন করে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের জন্য কেন জরিপ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে। আদালত ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 

আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

শুনানিতে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। ওই লেক বর্তমানে অবৈধ দখল করে অনেকে অবস্থান করছেন এবং দূষণ করছেন। যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে অনেক অবৈধ দখলদার তাদের নিজের মালিকানা দাবি করছেন। এ কারণে তাদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। মানচিত্র অনুযায়ী জরিপ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।  

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাপ্তাই লেক দখল ও দূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

পরে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রকৃত সীমানা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক তখন জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে লেকের সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করলে আদালত এই আদেশ দেন। 


জাতীয় এর আরও খবর