উচ্চশিক্ষা সম্মেলনে ড. ইউনূস

img

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটে নির্ধারণ হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

প্রকাশিত :  ০৬:৪৯, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:১৯, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটে নির্ধারণ হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের সৃজনশীলতা জাগ্রত করা এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে শেখানো।” তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। উদ্যোক্তা মানসিকতা, কল্পনাশক্তি ও নতুন কিছু তৈরির সাহস শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া সম্ভাবনাময় একটি অঞ্চল হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বিভাজন ও ভুল নীতির কারণে এই সম্ভাবনাগুলো প্রায়ই কাজে লাগানো যায় না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষা হতে পারে সেই শক্তি যা তরুণদের পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করবে।

ড. ইউনূস তরুণদের রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তরুণদের স্বপ্নবাজ হওয়া উচিত।”

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

img

কাপ্তাই লেক দখলদারদের তালিকার নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রকাশিত :  ১৪:১১, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুযায়ী সীমানা জরিপ করে চার মাসের মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ জন্য জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে যৌথভাবে জরিপ সম্পন্ন করে অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। 

জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে লেকের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের জন্য কেন জরিপ অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ঠদের প্রতি রুল জারি করা হয়েছে। আদালত ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 

আদালতে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।

শুনানিতে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক সৃষ্টি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল। ওই লেক বর্তমানে অবৈধ দখল করে অনেকে অবস্থান করছেন এবং দূষণ করছেন। যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে অনেক অবৈধ দখলদার তাদের নিজের মালিকানা দাবি করছেন। এ কারণে তাদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। মানচিত্র অনুযায়ী জরিপ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।  

মামলার বিবরণে জানা যায়, কাপ্তাই লেক দখল ও দূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদন করে এইচআরপিবি। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

পরে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রকৃত সীমানা নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক তখন জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে লেকের সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এইচআরপিবি একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করলে আদালত এই আদেশ দেন। 


জাতীয় এর আরও খবর