img

বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটির সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

প্রকাশিত :  ১৪:১৯, ০৩ মার্চ ২০২৬

বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটির সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় অবস্থিত একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে তারা বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এ অভিযানে ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিপ্লবী গার্ড আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলায় মার্কিন বিমান ঘাঁটির প্রধান কমান্ড এবং সদর দপ্তর ভবন ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি তাদের জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলোতে আগুন লাগানো হয়েছে। এই পদক্ষেপকে ইরান তার সামরিক প্রতিশোধের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

হামলার বিষয়ে বাহরাইনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, ইরানের সামরিক বাহিনী বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ঘাঁটিতে হামলার খবর প্রকাশ করেছিল। এই নতুন হামলার দাবি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।ব্রেকিং নিউজ

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান এই ধরণের হামলার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং স্থাপনার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইআরজিসি এই ধরনের হামলাকে সামরিক কৌশলগত প্রতিশোধ হিসেবে দেখিয়েছে। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের কর্মকাণ্ড থামাতে ব্যর্থ হলে এমন আরও হামলা সম্ভব।

বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে। তবে এ পর্যন্ত হামলার প্রভাব এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই ধরনের হামলা চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিহারের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে পারে।

এই ঘটনাকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনার নতুন অধ্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে। সামরিক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এ মুহূর্তে পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ আলোচনায় বসতে পারে: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

ট্রাম্প জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় কোনো অগ্রগতি হতে পারে এবং আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে তারা পুনরায় পাকিস্তানকেই বেছে নেওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ উভয় দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই ট্রাম্প নতুন এই আশার কথা শোনালেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা বিনিময় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ব্যাপারে একমত হওয়ার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।

উল্লেখ্য যে, ইসলামাবাদে গত রবিবারের বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছিল। এর পরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং ইরানও পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের নতুন এই আলোচনার প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।