img

ট্রাম্পের ‘অনুভূতির’ ভিত্তিতেই ইরানে হামলা: হোয়াইট হাউস

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:০৬, ০৫ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের ‘অনুভূতির’ ভিত্তিতেই ইরানে হামলা: হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের পক্ষে দীর্ঘ সাফাই গেয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রেসিডেন্টের ‘এক ধরনের অনুভূতি’ তৈরি হয়েছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটেই এই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্যারোলিন লিভিট জানান, প্রেসিডেন্টের মনে হয়েছিল, ইরান যেকোনো সময় যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানতে পারে। লিভিট বলেন, ‘এই সব বিষয় বিবেচনা করেই প্রেসিডেন্ট “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।’
গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে হোয়াইট হাউসের এই মুখপাত্র বলেন, সংবাদমাধ্যমের উচিত প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য সঠিকভাবে তুলে ধরা। কেবল ‘তারা অন্যের বিরোধিতা করছে’—এভাবে ঢালাও মন্তব্য না করে প্রকৃত প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রতিবেদন করা প্রয়োজন।
হামলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে লিভিট আরও বলেন, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্তগুলো কোনো শূন্যস্থান থেকে নেওয়া হয় না।’ তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরুতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়েই এই হামলা চালাতে চেয়েছিলেন। লিভিটের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একটি সঠিক এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের ওপর মার্কিন এই আকস্মিক হামলা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন এই অভিযানকে আত্মরক্ষামূলক বললেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই বিষয়টিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ আলোচনায় বসতে পারে: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

ট্রাম্প জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় কোনো অগ্রগতি হতে পারে এবং আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে তারা পুনরায় পাকিস্তানকেই বেছে নেওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ উভয় দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই ট্রাম্প নতুন এই আশার কথা শোনালেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা বিনিময় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ব্যাপারে একমত হওয়ার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।

উল্লেখ্য যে, ইসলামাবাদে গত রবিবারের বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছিল। এর পরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং ইরানও পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের নতুন এই আলোচনার প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।