img

মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর

প্রকাশিত :  ০৯:৫৬, ১৩ মার্চ ২০২৬

মির্জা আব্বাসকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট মুশফিকুল ফজল আনসারীর

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে নিয়ে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে। 

আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এ পোস্ট দেন মুশফিকুল ফজল আনসারী। 

পোস্টে তিনি লেখেন, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন, খবরটি শুনে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তৃণমূল থেকে শুরু করে রাজনীতির নানা ধাপ অতিক্রম করে তিনি আজকের মির্জা আব্বাস হয়ে উঠেছেন। রাজনীতির পথে যেমন বহু চড়াই–উতরাই পেরিয়েছেন, তেমনি নানা সময়ে বিতর্কও তাকে তাড়া করেছে। কিন্তু সবকিছুকে ছাপিয়ে গণতন্ত্রের সংগ্রামে তিনি ছিলেন একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। 

ফজল আনসারী আরও লেখেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর যখন ঢাকায় গিয়েছিলাম, আব্বাস ভাই ফোন করে বাসায় দাওয়াতও দিয়েছিলেন। কিন্তু নানা কর্মব্যস্ততার কারণে সেই সময়ে তার দাওয়াত রক্ষা করা হয়ে ওঠেনি। আজ আফসোসের সঙ্গে মনে পড়ছে।

হাসিনার শাসনামলে প্রায়ই ফোন করে নানা বিষয়ে জানতে চাইতেন, আবার উৎসাহ জোগাতেন। বিশেষ করে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তার প্রবল আগ্রহ ছিল।  

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনের পর একদিন কিছুটা কর্কশ সুরে ফোন করে বললেন, মুশফিক- ইলেকশন তো হইয়া গেল। কতো কথা তো কইলা—কিছুই তো হইল না! আমিও কিঞ্চিৎ রেগে বললাম, আব্বাস ভাই, ওয়েট অ্যান্ড সি। আরে ইলেকশন! আপনি চাইলেও হাসিনারে ক্ষমতায় রাখতে পারবেন না।

আব্বাস ভাই বললেন, দেখিও কইলাম, তোমার কথা কিন্তু লেইখা রাখলাম। আমি বললাম, লিখে রাখেন। 

পোস্টের শেষে আনসারী লেখেন, হাসিনা পতনের পর একদিন আব্বাস ভাই বললেন, তুমি কীভাবে মূল্যায়িত হবে জানি না, কিন্তু ইতিহাস তোমাকে মনে  রাখবে।

আব্বাস ভাইয়ের এমন অনেক কথাই আজ মনে পড়ছে। অবশ্য শুধু আব্বাস ভাই নয়, বিএনপির এখনকার অনেক শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে যে উৎসাহ ও সমর্থন পেয়েছি, তা আমার কাজের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। 

মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করি, আব্বাস ভাই যেন দ্রুত পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন এবং ফের তার চিরচেনা প্রাণচঞ্চল উপস্থিতি নিয়ে রাজনীতির ময়দান ও রাষ্ট্র মেরামতের কাজে ফিরে আসেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

হৃদযন্ত্রে ব্লক, ব্রিটেনে রাষ্ট্রপতির জরুরি এনজিওপ্লাস্টি

প্রকাশিত :  ২০:০৩, ১২ মে ২০২৬

ব্রিটেনে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে গুরুত্বপূর্ণ ব্লক ধরা পড়েছে। এরপর জরুরিভিত্তিতে তার এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং একটি স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল ও সন্তোষজনক বলে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে বঙ্গভবনের প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক কর্নেল ডা. এ কে এম ফয়জুল হকের বরাত দিয়ে প্রেস উইং জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. স্টিফেন হোলির তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রপতির এনজিওগ্রাম সম্পন্ন হয়। পরীক্ষায় হৃদযন্ত্রের একটি ধমনীতে উল্লেখযোগ্য ব্লক শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে এনজিওপ্লাস্টি করা হয় এবং স্টেন্ট বসানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে (এনইউএইচ) ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর থেকে হৃদযন্ত্র-সংক্রান্ত জটিলতার ফলো-আপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে তিনি নিয়মিত ক্যামব্রিজের রয়াল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে আসছেন। বিশ্বমানের হৃদরোগ চিকিৎসা ও গবেষণার জন্য সুপরিচিত এই হাসপাতাল বিশ্বে প্রথম সফল হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম হিসেবে স্বীকৃত।

রাষ্ট্রপতি গত ৯ মে ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে লন্ডনের পথে ঢাকা ত্যাগ করেন। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।