img

প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে ‘নৃত্যরত’ সেজ্জিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

প্রকাশিত :  ০৯:২৭, ১৬ মার্চ ২০২৬

 প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে ‘নৃত্যরত’ সেজ্জিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

ইরানের শক্তিশালী সেজ্জিল-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রকে সামরিক বিশ্লেষকেরা ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বা ড্যান্সিং মিসাইল বলেও উল্লেখ করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভি জানিয়েছে, রোববার প্রথমবারের মতো এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। একই দিনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার টানা ১৬তম দিন পার হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সেজ্জিল-২ ব্যবহার ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই ধাপবিশিষ্ট এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ৭০০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে এবং দ্রুত গতি ও কৌশলগত গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতার কারণে একে ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ বলা হয়।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি তরল জ্বালানির বদলে কঠিন জ্বালানি বা সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে। এর ফলে দ্রুত উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তা অধিক কার্যকর হয়ে ওঠে। উচ্চতায় চলার সময় গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা থাকায় এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ প্রায় ১৮ মিটার, ব্যাস প্রায় ১ দশমিক ২৫ মিটার এবং মোট ওজন প্রায় ১২ হাজার ৬০০ কেজি।

ইরান নব্বইয়ের দশকে এই ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে এবং ২০০৮ সালে প্রথম সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সম্পন্ন হয়। এরপর ধীরে ধীরে এর উন্নত সংস্করণ তৈরি করা হয়।

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দুটি প্রধান সংস্করণ রয়েছে— সেজ্জিল-১ এবং সেজ্জিল-২। এর মধ্যে সেজ্জিল-১ স্বল্প পাল্লার এবং সেজ্জিল-২ মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ হামলায় ইরান সেজ্জিল-২ সংস্করণ ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র : এএফপি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আগামী দুই দিনের মধ্যে’ আলোচনায় বসতে পারে: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৩, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উত্তেজনা নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

ট্রাম্প জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বড় কোনো অগ্রগতি হতে পারে এবং আলোচনার কেন্দ্র হিসেবে তারা পুনরায় পাকিস্তানকেই বেছে নেওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ উভয় দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন। কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই ট্রাম্প নতুন এই আশার কথা শোনালেন।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বার্তা বিনিময় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ব্যাপারে একমত হওয়ার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে নেই।

উল্লেখ্য যে, ইসলামাবাদে গত রবিবারের বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ার পর উভয় পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করেছিল। এর পরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন এবং ইরানও পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দেয়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের নতুন এই আলোচনার প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।