img

ছিটকে পড়া শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত ২

প্রকাশিত :  ০৭:১১, ০৮ জুন ২০২৬

ছিটকে পড়া শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় নিহত ২

ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৮ বছরের শিশুসহ এক মোটরসাইকেল আরোহী। গতকাল রোববার (৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে কোলইকান্দি বটতলা এলাকায় পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেল একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে অটোরিকশায় থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে আট বছরের শিশু আলিফ। তাকে উদ্ধার করতে ওই মোটরসাইকেলের এক আরোহী দৌড়ে আসার সময় আলিফসহ ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়েছেন।

নিহত আলিফ পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের কোলাদি গ্রামের জাহিদ হোসেনের ছেলে।

পাকশী হাইওয়ে থানার ওসি নান্নু খান জানান, আলিফ তার মা আঁখি ও খালার সঙ্গে পাবনা থেকে একটি অটোরিকশা করে পাকশী বেড়াতে এসেছিল। পথে কোলইকান্দি বটতলা এলাকায় পৌঁছানোর পর অটোরিকশাটি রাস্তার পাশে সামান্য কাত হয়ে যায়। এসময় পেছনে থাকা একটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লেগে মায়ের কোল থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যায় আলিফ।

ছেলেকে বাঁচাতে মা অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে নামার পর মোটরসাইকেল চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। এসময় ওই মোটরসাইকেলের আরোহী (নাম জানা যায়নি) শিশুটিকে বাঁচাতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই আলিফ ও মোটরসাইকেল আরোহী মারা যান। এতে আহত হন আলিফের মা আঁখি খাতুন।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পাকশী হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে। তবে অটোরিকশা ও ট্রাক নিয়ে চালকেরা পালিয়ে গেছে। আহত আঁখিকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

সড়কের পাশে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ০৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ। প্রতিদিনের মতো সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। 

সেই দৃশ্য লক্ষ্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেই আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন। 

বুধবার (০৮ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর হাতে কিছু উপহারও তুলে দেন। 

এ সময় আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। গত আটমাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। এর আগে তিনি গাড়ি চালাতেন। স্ট্রোক করার পর তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে এই সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিনই বিরতিহীন সকাল ৮ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা কাজ করেন তিনি।

সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরনো থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেয়ার জন্য উপহার দিয়ে পাঠান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী আমার জানের টুকরা। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই। তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে সবদিনই হেসে সালাম দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাসি দেখলে আমার মন জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।’

একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ এর আরও খবর