img

আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বই

প্রকাশিত :  ১৪:২৮, ০৮ জুন ২০২৬

আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বই

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে ২০২৮ সাল থেকে নতুন পাঠ্যক্রম চালু হবে ।

তবে এর আগেই আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চারটি নতুন পাঠ্যবই যুক্ত হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, যতটা দ্রুত সম্ভব শিক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। এখানে শিক্ষাক্রমের মধ্যে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে হবে। 

এর পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া বিষয়টি যুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি নামে আরেকটি বিষয়ও যুক্ত হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে।

এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দুটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আরেকটি হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এগুলো বাধ্যতামূলক বিষয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ একদিকে যেমন একটি বিষয় হবে। এ ছাড়া এর মূল্যবোধের নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের শেখানো ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’কোর্সের মধ্যে থাকবে।

শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে একটি বড় অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

নতুন চারটি বিষয় কবে থেকে তা চালু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়। প্রথমত এটিকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মত অনুধাবন করে ২০২৭ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আর পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, সেটা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে। এটি ২০২৮ থেকে দেখা যাবে। শিখন ফল অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাক্রম করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

সরকারের পরিকল্পনা হলো, ২০২৮ সাল থেকে নতুন করে একটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা। এই শিক্ষাক্রম প্রণয়নের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, না কি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

ঢাবিতে ৭ শিক্ষার্থী আহতের ঘটনায় প্রক্টর অফিস ঘেরাও, পাঁচ দফা দাবি

প্রকাশিত :  ১০:২৯, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে গাড়িচাপায় সাত শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পাঁচ দফা দাবিতে প্রক্টর অফিস ঘেরাও করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রক্টরকে অফিসে না পাওয়া এবং একাধিকবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা দায়েরের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি। এ কারণে তারা পুনরায় প্রক্টর অফিসে গিয়ে অবস্থান নেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে একটি প্রাইভেটকারের ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হন। গাড়িটির চালক হিসেবে অভিযুক্ত সাদমান সাকিব বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশনের শিক্ষার্থী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য শহিদুল ইসলামের ছেলে।

আহত শিক্ষার্থীদের সহপাঠী জোনায়েদ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর প্রক্টর অভিযুক্তের বিষয়ে নমনীয় অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল আমার বিভাগের ছয়জন শিক্ষার্থীর ওপর গাড়ি চাপা দেওয়ার পরও প্রক্টর বলতেছেন, সে ভুলবশত অন্যায় করেছে। আমরা তাৎক্ষণিক বিচারের দাবিতে গেলে প্রক্টর বলেছিলেন, ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হলে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করতাম। কিন্তু পরবর্তীকালে যখন জানতে পারেন, ও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী, তখনই উনি সুর পাল্টে ফেলেন এবং বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জোনায়েদ আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও প্রশাসনিক নীতিমালার কথা বলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রক্টর অফিসে আন্দোলনের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর নিয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে থানায় যান। তবে সেখানে শিক্ষার্থীদের বাইরে রেখে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

জোনায়েদ বলেন, ‘আমরা সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই আজকের এই কর্মসূচি দিয়েছি। কিন্তু দেখেন, এখনো প্রক্টরের কোনো খোঁজ নেই। কল দিলেও রিসিভ করেন না। আমরা শিক্ষার্থীরা বলতে চাই, আপনি যদি আপনার দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, আপনি পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ, আমরা কোনো নেগোসিয়েশন চাই না, আমরা চাই সঠিক বিচার।’

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করা; ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও প্রকাশ; সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচার; মামলা দায়ের ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদ যানবাহন চলাচলে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের চিকিৎসার খরচসহ যাবতীয় দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীর বিচার নিশ্চিত হবে।’

প্রক্টরের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি জানান, অসুস্থতার কারণে প্রক্টর অফিসে আসতে পারেননি। তবে বিকেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থী হলেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের মার্কেটিং বিভাগের জাহিদুল ইসলাম হৃদয়, কানিজ ফাতেমা, তাসনিয়া বেগম তাহা, মিফতাহুল, তাসফিয়া তাবাসসুম ও সিদরাতুল মুনতাহা। এ ছাড়া ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়াও আহত হয়েছেন।