img

মরিশাসে কর্মী যাচ্ছে নিয়মিত, তবু ঘোষণা শ্রমবাজার খোলার

প্রকাশিত :  ০৫:০৪, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২১, ০৯ জুন ২০২৬

মরিশাসে কর্মী যাচ্ছে নিয়মিত, তবু ঘোষণা শ্রমবাজার খোলার

আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে সোমবার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। তবে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২৪৫ জন বাংলাদেশি কর্মী মরিশাসে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন। এর মধ্যে গত ৩০ দিনেই গেছেন ৪৬৭ জন। আর ২০২৫ সালে দেশটিতে গিয়েছিলেন মাত্র ৩১ জন।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মরিশাসের শ্রমমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিমের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মরিশাসে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা, বন্ধ বাজার পুনরায় চালু এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে করণীয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে খোলা থাকা শ্রমবাজার কীভাবে আবার খুলবে, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল। 

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সমকালকে জানিয়েছেন, বিজ্ঞপ্তিটি জেনেভা থেকে মন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা পাঠিয়েছেন। মন্ত্রণালয় তা শুধু সংবাদমাধ্যমে দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাছে মরিশাসের শ্রমবাজার বন্ধের তথ্য নেই। এক কর্মকর্তা জানান, গার্মেন্টে নিয়োগের জন্য সমঝোতা স্মারক সই হবে। একেই হয়তো শ্রমবাজার খুলতে যাচ্ছে বলে বোঝানো হয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক মরিশাসে জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্যে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে দেশটির সরকারকে অনুরোধ করেন। বৈঠক শেষে তিনি মরিশাসের শ্রমমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের প্রস্তাবকে মরিশাসের মন্ত্রী স্বাগত জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মুহাম্মদ রেজা কাসাম উতিমের বরাতে এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে মরিশাস আগ্রহী। বিশেষ করে ওয়ান-স্টপ টেক্সটাইল শিল্পের জন্য প্রচুর দক্ষ কর্মী প্রয়োজন।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

সড়কের পাশে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ডকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

প্রকাশিত :  ১২:৫৯, ০৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এটিএম বুথ। প্রতিদিনের মতো সেখানেই দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর আরেকটি অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা। 

সেই দৃশ্য লক্ষ্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেই আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন। 

বুধবার (০৮ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন রাজধানীর রমনায় গিয়ে আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাঁর হাতে কিছু উপহারও তুলে দেন। 

এ সময় আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা ও তার পরিবারের খোঁজখবরও নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। গত আটমাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করছেন। এর আগে তিনি গাড়ি চালাতেন। স্ট্রোক করার পর তিনি আর গাড়ি চালাতে পারেন না। গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে এই সিকিউরিটি গার্ডের কাজ নেন তিনি। অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিদিনই বিরতিহীন সকাল ৮ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘন্টা কাজ করেন তিনি।

সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরনো থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা নজরে আসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে ওই ব্যক্তির খোঁজ খবর নেয়ার জন্য উপহার দিয়ে পাঠান। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সালাম।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, কখনো কল্পনাও করিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী আমার জানের টুকরা। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই। তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে সবদিনই হেসে সালাম দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর হাসি দেখলে আমার মন জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।’

একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশ এর আরও খবর