img

নেপালে পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় ১৫শ’

প্রকাশিত :  ০৬:৩৯, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

নেপালে পাহাড়ি ঢলে প্রাণহানি বেড়ে ৪৬৯, নিখোঁজ প্রায় ১৫শ’

নেপালে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বন্যায় এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলে জানানো হয়েছিল। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

গত বুধবার সকালে নেপালের রসুয়াসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ভোতকোশি ও ত্রিশূলি নদীতে আকস্মিকভাবে পানির তীব্র ঢল ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। এই পাহাড়ি ঢলের তোড়ে অসংখ্য ঘরবাড়ি, পাকা সড়ক ও সেতুসহ যোগাযোগ অবকাঠামো সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ফলে বেশ কিছু দুর্গম এলাকা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে হতাহত ও নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ এখনও চলছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগের কবলে পড়া অঞ্চলগুলোতে অন্তত ৬৬৭ জন পর্যটক ও পরিব্রাজক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১২৭ জন নেপালি নাগরিক।

পর্যটন বোর্ড নিশ্চিত করেছে যে, দুর্গত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৩১ জন বিদেশি নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন, দুজন রুশ, দুজন ইতালীয়, একজন ভারতীয়, একজন বুলগেরীয় এবং একজন সুইস নাগরিক রয়েছেন। বাকি ১৮ জনের জাতীয়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। নিখোঁজ পর্যটকদের অবস্থান শনাক্ত ও উদ্ধারে পর্যটন মন্ত্রণালয়, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং স্থানীয় ট্রেকিং এজেন্সিগুলো যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেপালি সেনাবাহিনী, নেপাল পুলিশ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী একযোগে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দল নদীতীরবর্তী ও ভাটি এলাকায় জীবিত ব্যক্তি বা মরদেহের সন্ধান করছে।

হিমালয়ের পাদদেশীয় এই অঞ্চলে কোনো ধরনের পূর্বসতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ কেন এমন বিধ্বংসী পানির বিস্ফোরণ ঘটল, তা এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। আকস্মিক এই জলচ্ছ্বাসের কারণে নদী অববাহিকার ঝুঁকিপূর্ণ জনপদে বসবাসকারী মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সামান্যতম সুযোগও পাননি।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ’ তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পে

প্রকাশিত :  ০৫:০১, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে তিনি ‘বিশ্বের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে এবং জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তি করেছেন। বেসরকারি কোম্পানির অংশীদারত্বে করা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো করদাতার অর্থ খরচ না করেই ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির সরকারি কোষাগারে প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আসতে পারে।

কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে চুক্তিটি হয়েছে। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ পাবে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দিতে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে তেলক্ষেত্রগুলো নিলামে তোলা হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের কারণে এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ দেশটির তেলশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এখনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বড় ধরনেরভাবে বাড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে চায়, অন্যদিকে মার্কিন শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে চায়।

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। দেশটির সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় এটি অনেক কম।

তবে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কাঠামো, কোন তেলক্ষেত্রগুলো এতে থাকছে এবং কোন কোন কোম্পানি এতে যুক্ত—এসব বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত জানাননি। তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে।


জাতীয় এর আরও খবর