img

মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ২৮ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৫৬, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

মক্কা জোট নতুন সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত: বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তান

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (এমজেডিএ) ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, নতুন কোনো দেশ এই প্রতিরক্ষা জোটে যুক্ত হতে চাইলে তার আবেদন এককভাবে নয়, সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে পরামর্শ করেই পর্যালোচনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের এই জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এমন উত্তর দেন।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের সূত্র ধরে জানতে চান, বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা ফ্রন্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে কি না। এছাড়া সিরিয়া ও ইরানের মত দেশগুলোর আগ্রহের বিষয়েও বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

জবাবে তাহির আন্দ্রাবি বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হল শান্তি রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রচারের লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। একটি উদীয়মান নিরাপত্তা বলয় হিসেবে এই জোটের দরজা সেসব দেশের জন্য খোলা, যারা অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ এবং যৌথ বাধ্যবাধকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

নতুন সদস্য নেওয়ার প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জোটভুক্ত হওয়ার জন্য যে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আমাদের অংশীদার রিয়াদ এবং আঙ্কারার সঙ্গে পরামর্শ করে বিবেচনা করা হবে।

নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কোনো দেশের নাম উচ্চারণ করেননি পাকিস্তানের মুখপাত্র। ইরান ও সিরিয়ার আগ্রহ নিয়েও তিনি আলাদা করে কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে তিনি বলেছেন, চুক্তিটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার আলোচনা

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরব নিউজকে জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে এখনো নীতিগত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

আরেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সোমবার একই ধরনের কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মক্কা নিয়ে তো সবসময় আলাদা একটা জায়গা, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে, পশ্চিম এশিয়ায় একটা যদি হয়, যদি ইসলামিক দেশগুলোর মধ্যে একটা নিরাপত্তা চুক্তি হয়, তাহলে ওখানে তো অস্বাভাবিক না যাওয়া। দেখা যাক, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে।

এই চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদান করা ঠিক হবে কি-না এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেন, মক্কা জোটের সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশকে যুক্ত করার প্রস্তাব এলে সরকার তা ‘ইতিবাচকভাবে’ বিবেচনা করবে।

তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

কী এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত ৭ অগাস্ট মক্কায় এ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।

চুক্তির একটি মূল বিষয় হল, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদেরও সম্মিলিত প্রতিরক্ষার আওতায় আসার কথা রয়েছে।

চুক্তিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামরিক সমন্বয়, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ’ তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পে

প্রকাশিত :  ০৫:০১, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে তিনি ‘বিশ্বের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে এবং জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তি করেছেন। বেসরকারি কোম্পানির অংশীদারত্বে করা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো করদাতার অর্থ খরচ না করেই ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির সরকারি কোষাগারে প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আসতে পারে।

কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে চুক্তিটি হয়েছে। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ পাবে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দিতে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে তেলক্ষেত্রগুলো নিলামে তোলা হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের কারণে এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ দেশটির তেলশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এখনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বড় ধরনেরভাবে বাড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে চায়, অন্যদিকে মার্কিন শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে চায়।

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। দেশটির সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় এটি অনেক কম।

তবে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কাঠামো, কোন তেলক্ষেত্রগুলো এতে থাকছে এবং কোন কোন কোম্পানি এতে যুক্ত—এসব বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত জানাননি। তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে।


জাতীয় এর আরও খবর