img

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়ওয়াল

প্রকাশিত :  ১৯:১৯, ২৮ আগষ্ট ২০২৬

মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে ভারত: রণধীর জয়ওয়াল

বিশ্বব্যাপী আলোচিত মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে এ বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, তারা সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, প্রথমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ওই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও ওই চুক্তিকে ইতিবাচক বর্ণনা করে বলেন, এ চুক্তি যদি বিস্তৃত হয়-এটা হচ্ছে বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা। এটা মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে কারও-অন্যদের উদ্বেগের অবকাশ নেই।

মক্কা চুক্তি সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ প্যাক্টকে আমরা ইতিবাচক হিসাবে দেখছি। এতে যোগদান বা যোগদান না করার বিষয়টি এখনো আসেনি। কারণ, এটি নির্ভর করছে প্যাক্টের সদস্যদের অভিপ্রায়ের ওপর। তারা যদি বাংলাদেশকে এ প্যাক্টে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তাহলে আমরা নিশ্চয়ই এটিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।’

মক্কা চুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের বিষয়ে ভারতের ভাবনা জানতে চান ওই সাংবাদিক। জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা সব ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় হয়। নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।’

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। সম্প্রতি দুটি পরিবার আক্রান্ত হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা নিহত হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বা নিয়েছে কি না, উল্লেখ করে ওই সাংবাদিক জানতে চান, এটা ভারতের কাছে উদ্বেজনক কি না। জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন, আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতির মোকাবিলা করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব তাদের পালন করা উচিত।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ‘ইতিহাসের সর্ববৃহৎ’ তেল চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পে

প্রকাশিত :  ০৫:০১, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে একটি বড় ধরনের তেল চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, যাকে তিনি ‘বিশ্বের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি প্রমাণিত তেল মজুদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি বাড়াবে এবং জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।

ট্রাম্প জানান, তার নির্দেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তি করেছেন। বেসরকারি কোম্পানির অংশীদারত্বে করা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো করদাতার অর্থ খরচ না করেই ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়নের বেশি ব্যারেল প্রমাণিত তেল মজুতের ওপর সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলে দাবি করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে দেশটির সরকারি কোষাগারে প্রায় ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার আসতে পারে।

কয়েক সপ্তাহের আলোচনা শেষে চুক্তিটি হয়েছে। এর আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার বেশ কয়েকটি তেলক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ পাবে। এসব ক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও থাকবে।

ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা আগামী সপ্তাহে কয়েকটি কোম্পানিকে নতুন তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদনের অধিকার দিতে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এর আগে রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছিল, তেলক্ষেত্রগুলো ইজারা দেওয়ার একটি ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন তেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে তেলক্ষেত্রগুলো নিলামে তোলা হতে পারে। তবে ভেনেজুয়েলার আইন ও সংবিধানের কারণে এ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ দেশটির তেলশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এখনো রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেলশিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বড় ধরনেরভাবে বাড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বাড়াতে চায়, অন্যদিকে মার্কিন শোধনাগারগুলোর জন্য আরও বেশি অপরিশোধিত তেল নিশ্চিত করতে চায়।

ভেনেজুয়েলায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, অব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বর্তমানে দৈনিক মাত্র ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। দেশটির সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতার তুলনায় এটি অনেক কম।

তবে চুক্তিটির সুনির্দিষ্ট কাঠামো, কোন তেলক্ষেত্রগুলো এতে থাকছে এবং কোন কোন কোম্পানি এতে যুক্ত—এসব বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত জানাননি। তেল মজুতের ওপর যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটিকে দুই দেশের জন্যই লাভজনক বলে মন্তব্য করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীল ও কম দামে তেল পাবে এবং জ্বালানির দাম কমাতে সহায়তা করবে।


জাতীয় এর আরও খবর