img

বারার বাসিন্দাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হেলথ এন্ড ওয়েলবিং ফি স্থগিত করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

প্রকাশিত :  ১৪:৩৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

বারার বাসিন্দাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হেলথ এন্ড ওয়েলবিং ফি স্থগিত করেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল

গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল, খাদ্যদ্রব্যসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা পণ্য সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধির ফলে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করা বারার স্বাস্থ্য সচেতন বাসিন্দাদের জন্য একটি সুখবর নিয়ে এসেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বারারা বাসিন্দাদের মানসিক ও শারিরীক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে কাউন্সিলের সব ওয়েলেবিং লেইজার সেন্টারে সব ধরনের ফি এবং মেম্বারশীপ ফি স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। শুধুমাত্র টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বাসিন্দারা বারার ভেতরের লেইজার সেন্টারগুলোতে এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

যদিও এরিমধ্যে ১৬ বছর বা তদোর্ধ বয়সী কিশোরী ও মহিলা এবং ৫৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে তার বেশি বয়সী পুরুষরা বারার লেইজার সেন্টারগুলোতে বিনামূল্যে বা কোনো ফি ছাড়াই সাঁতার বা সুইমিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন ফি মুক্ত লেইজার সেন্টার ঘোষণাটি।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী এবং যারা দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন, তারাসহ বারার সর্বস্থরের বাসিন্দা কোনো ধরনের ফি ছাড়া তাদের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বারার লেইজার সেন্টারগুলো ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

সুবিধাগুলো হল, ১৬ বছর বয়স থেকে শুরু করে কিশোরী ও নারী এবং ৫৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে পুরুষদের জন্য ফ্রি সুইমিং সুবিধা। একটি মাত্র মেম্বারশীপের মাধ্যমে বারার ৬টি লেইসার সেন্টার ব্যবহারের সুযোগ। বাসিন্দাদের ব্যবহারের সুবিধার্থে আধুনিক এবং উন্নত প্রযুক্তির ফিটনেস সরঞ্জাম বাড়ানো এবং ফিটনেস ক্লাশ বৃদ্ধিসহ এবং ওয়েলবিং প্রোগ্রামসহ নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, টাওয়ার হ্যামলেটসের ঐতিহ্যবাহি ইয়র্ক হলের স্পা-এর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়াও মাইলএন্ডের ফুটবল পিচের সংস্কার করা হচ্ছে। পপলার বাথস এবং ইয়র্ক হলে ওমেন্স ওনলী জিম অর্থাৎ শুধুমাত্র নারীদের জন্যে জিম সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। মাইলএন্ড, টিলার এবং পপলার বাথসে বাড়ানো হচ্ছে ক্র্যাচ সুবিধা। অর্থাভাবে যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য লেইজার সেন্টার বন্ধ হচ্ছে বা বন্ধ হবার হুমকির মধ্যে রয়েছে সেখানে বারারা বাসিন্দাদের মানসিক ও শারিরীক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে টাওয়ার হ্যামলেটসের লেইসার সেন্টারগুলোতে সুবিধা বৃদ্ধি করতে ব্যতিক্রমী এসব উদ্যোগ নিয়েছে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে কাউন্সিলের কালচার এবং রিক্রিয়েশন লিড মেম্বার, কাউন্সিলর মোহাম্মদ কামরুল হোসেইন বলেছেন, “বারার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আমাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে বারার লেইজার সেন্টারগুলোতে বিনিয়োগ করে বাসিন্দাদের জন্য সুবিধা বাড়াচ্ছি আমরা। এর মাধ্যমে শুধু যে বাসিন্দাদের মানুসিক ও শারিরীক স্বাস্থের সুরক্ষা সুবিধা বাড়বে তাই নয়, লেইজার সেন্টারের ফ্রি সুবিধা ভোগ করতে আসা বাসিন্দাদের মধ্যে একে অন্যর একটা যোগসূত্র হবে এর মাধ্যমে। একে অন্যের সাথে সম্পর্ক তৈরী হওয়া একটা বাড়তি মানসিক গুণ বলা যায়। স্বাস্থ্যগত উন্নতির পাশাপাশি একের অন্যের সাথে যোগাযোগ তৈরীর মাধ্যমে  স্বাস্থ্যসম্মত এবং শক্তিশালী টাওয়ার হ্যামলেটস তৈরী হবে।”

তিনি আরো বলেছেন, “লেইজার সার্ভিসে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত বৈষম্য কমিয়ে বারার সব বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রশাসনের অন্যতম একটি পরিবকল্পনা। এ কারণে লেইজার সেন্টারগুলোকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে বারার দীর্ঘ মেয়াদে অসুস্থ, ডিজেবলসহ সব বয়সের শিশু, নারী, পুরুষ খুব সহজে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন।”

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের লেইজার সেন্টারের মেম্বারশীপসহ অন্যান্য প্রোগ্রাম এবং সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে দয়া করে ভিজিট করুন www.be-well.org.uk

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

জুনের শেষ বিকেল, জুলাইয়ের নতুন প্রত্যাশা—পুঁজিবাজার কি ঘুরে দাঁড়ানোর পথে?

প্রকাশিত :  ১৩:৫৮, ২৭ জুন ২০২৬

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ 

অর্থবছরের শেষ কয়েকটি দিন বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বরাবরই একটি বিশেষ সময়। এ সময় বাজারের পর্দায় যেমন ওঠানামার মাত্রা বাড়ে, তেমনি বিনিয়োগকারীদের মনেও জমে নানা প্রশ্ন। কেউ বছরের হিসাব মেলান, কেউ খোঁজেন নতুন অর্থবছরের সম্ভাবনা। তাই জুনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আগামীকালের লেনদেন নিয়ে কৌতূহল যেমন স্বাভাবিক, তেমনি জুলাই মাসকে ঘিরে নতুন আশার আলোচনাও অমূলক নয়।

গত কয়েক সপ্তাহে বাজার এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে গেছে। একদিকে ছিল তীব্র দরপতনের চাপ, অন্যদিকে টানা কয়েকটি ঊর্ধ্বমুখী সেশন আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—পুঁজিবাজার কেবল সংখ্যার খেলা নয়; এটি প্রত্যাশা, আস্থা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির প্রতিফলন।

অর্থবছরের শেষ কার্যদিবসে সাধারণত প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা তাঁদের পোর্টফোলিও পুনর্বিন্যাস করেন। অনেকেই বছরের মুনাফা বাস্তবায়ন করেন, আবার কেউ নতুন বিনিয়োগের জন্য নগদ অর্থ প্রস্তুত রাখেন। ফলে শেষ দিনে বিক্রির চাপ কিছুটা বাড়া অস্বাভাবিক নয়। তবে একই সঙ্গে একটি বাস্তবতাও রয়েছে—সাম্প্রতিক দর-সংশোধনের ফলে অনেক মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের দাম তুলনামূলক আকর্ষণীয় পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে বাজারে নতুন ক্রেতাদের উপস্থিতিও বাড়তে পারে। এ কারণেই আগামীকালের বাজারে ওঠানামা থাকলেও তা আতঙ্কের কারণ নয়; বরং অর্থবছরের শেষ পর্যায়ের স্বাভাবিক সমন্বয় হিসেবেই দেখা উচিত।

কিন্তু আলোচনার বড় বিষয় আগামীকাল নয়; বরং আগামী মাস।

জুলাই মানেই নতুন অর্থবছরের শুরু। নতুন বাজেট, নতুন পরিকল্পনা, নতুন বিনিয়োগ এবং নতুন প্রত্যাশার সূচনা। পুঁজিবাজারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার কথা নয়। কারণ জুনের ক্লোজিং শেষ হলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বছরের শেষের চাপ অনেকটাই কমে যায়। তখন তাঁদের নজর ঘুরে যায় ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ কৌশলের দিকে। এই পরিবর্তন বাজারে তারল্য ও আস্থার পরিবেশ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক ও গভীর করার যে নীতিগত দিকনির্দেশনা এসেছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ডিজিটাল করা, নতুন বিনিয়োগ পণ্য চালুর উদ্যোগ এবং বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা—এসব উদ্যোগ কেবল সূচক বাড়ানোর জন্য নয়; বরং বাজারের ভিত্তি আরও মজবুত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর নজরদারি নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। স্বল্পমেয়াদে এ কঠোরতা কিছু অস্বস্তি তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি সুশৃঙ্খল বাজার গড়ে তুলতে কার্যকর নজরদারির কোনো বিকল্প নেই। বিনিয়োগকারীরা যদি ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন যে নিয়ন্ত্রণের মূল লক্ষ্য কারসাজি রোধ করা, তাহলে এই আস্থাই ভবিষ্যতের বাজারকে আরও স্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে, সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনও বাজারকে সহায়তা করতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা, আমদানি ব্যয়ের সম্ভাব্য ভারসাম্য এবং আর্থিক খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন এলে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির উৎপাদন ব্যয় ও মুনাফায় তার ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোম্পানির আয়ই শেয়ারের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তবে আশার পাশাপাশি সতর্ক থাকারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কর নীতির কিছু পরিবর্তন, বিনিয়োগে কর-সুবিধা হ্রাস এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা বাজারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থাকবে। তাই জুলাই এলেই বাজার শুধু ঊর্ধ্বমুখী হবে—এমন সরল সমীকরণ বাস্তবসম্মত নয়। পুঁজিবাজারের পথ কখনোই সরলরেখায় এগোয় না; সেখানে যেমন সংশোধন থাকবে, তেমনি পুনরুদ্ধারও থাকবে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন সাময়িক উচ্ছ্বাস নয়; প্রয়োজন টেকসই আস্থা। সেই আস্থা তৈরি হবে সুশাসন, স্বচ্ছতা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি এবং নীতির ধারাবাহিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে। সূচকের কয়েক দিনের উত্থান বাজারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না; বরং ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর মৌলিক শক্তি এবং নীতিনির্ধারকদের বিশ্বাসযোগ্যতা।

জুনের শেষ বিকেল তাই কেবল একটি অর্থবছরের সমাপ্তি নয়; এটি নতুন সম্ভাবনারও দুয়ার। আগামীকালের লেনদেনে হয়তো কিছু অস্থিরতা থাকবে। কিন্তু যদি সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসে, তাহলে জুলাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।

পুঁজিবাজার শেষ পর্যন্ত গুজবের নয়, ধৈর্যের বাজার। যারা স্বল্পমেয়াদি আবেগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেন, তারাই সাধারণত এই বাজারের প্রকৃত সম্ভাবনার অংশীদার হন।

কমিউনিটি এর আরও খবর