"একাত্তর মাথা উঁচু করে থাকার প্রেরণা - জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার, তবু মাথা নোয়াবার নয়"
হৃদয়ে একাত্তরের 'মত-অমত-দ্বিমত'-এর শততম পর্ব উদযাপন
লন্ডন: 'হৃদয়ে ৭১' একটি ব্যতিক্রমধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে তাদের নিয়মিত টক শো'র শততম পর্ব অনুষ্ঠিত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী এই কমিউনিটি প্ল্যাটফর্ম বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শে মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মানের পক্ষ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে গঠিত হয়। তাদের ধারাবাহিক টক শো 'মত-অমত-দ্বিমত'-এর শত তম পর্ব উপলক্ষে "জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়" এই নামে গত ২২ জুন সোমবার অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। একাধারে অনলাইন ও পূর্ব লন্ডনের ব্র্যাডি আর্টস সেন্টার থেকে অফ লাইনে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রথম অংশ ছিল শততম পর্বের টক শো এবং দ্বিতীয় অংশে ছিল একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মব সন্ত্রাসীদের ষড়যন্ত্র ও আকস্মিক আক্রমনে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পট পরিবর্তনের পটভূমিতে ১৯৭১ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষনের প্রত্যয় নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতানের নেতৃত্বে "হৃদয়ে৭১" নামে এই উদ্যোগটি আত্ম প্রকাশ করে। বৃটেনে অবস্থানরত শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক, পেশাজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত করে চলমান দূর্যোগ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে কমিউনিটির সকলকে নিয়ে এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু। প্রতিষ্ঠার ঊষালগ্ন থেকেই তারা সার্বক্ষনিক ভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে উদ্দ্যোক্তারা জানান। তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তাদের ধারাবাহিক টক শো "মত-অমত-দ্বিমত"। তারই শত তম পর্ব উপলক্ষ্যে এই আয়োজনটি করা হয়। ভিন্ন মাত্রার এই টক শো'র গোড়াতে তাদের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে অদ্যাবধি আয়োজিত বিভিন্ন কার্যক্রমের উপর ভিত্তি করে একটি ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়। এতে ছিল বিভিন্ন ঘটনা কেন্দ্রীক ও জাতীয় দিবস স্মরণে সভা, সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দুই বার বৃটিশ প্রধান মন্ত্রীর অফিসে স্মারক লিপি প্রদান, আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার আয়োজন - যেখানে দেশী বিদেশী আলোচকরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করেন ও উত্তরনের পরামর্শ দেন - এবং বিভিন্ন টক শো'র দৃশ্য। ডকুমেন্টারিটি গ্রন্থনায় সহায়তা করেন জয়দ্বীপ রায়। এখানে উল্লেখ্য যে এসব টক শো গুলোতে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চ মাত্রার অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তারা উঁচু মানের আলোচনা করেন।
বিগত পর্বগুলোতে যারা অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে শো গুলো অনুষ্ঠানে সহায়তা করেছেন তাদের এবং দেশ বিদেশের দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও কুশল বিনিময়ের জন্যই এ পর্বটি নিবেদন করা হয়। এটি উপস্থাপন করেন হৃদয়ে৭১-এর আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান এবং হলে সহযোগিতায় ছিলেন সংগঠক আলীমুজ্জামান ও ব্যারিস্টার মাহারুন আহাম্মেদ মালা। প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের চ্যানেলে সম্প্রচার শুরুর আগে ব্রীজবাংলা টিভি ও ফোকাস টিভির সহায়তার জন্য তাদেরও ধন্যবাদ জানান হয়। প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন টক শো'র প্রথম পর্বের অতিথি সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিষ্ট সৈয়দ বদরুল আহসান ও উপস্থাপক জিনিয়া তাহিরা। এ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, নাট্যকার স্বাধীন খসরু, হৃদয়ে৭১-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও টাওয়ার হেমলেটস্ কাউন্সিলের ডেপুটি স্পীকার কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন, কাউন্সিলর আব্দুল আজিজ তকী, কাউন্সিলর আমিনা আলী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব হরমুজ আলী, আহমদ মোসলেহ উদ্দিন, হিমাংশু গোস্বামী, মতিউর রহমান মতিন, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, সৈয়দ এহসানুল হক, মুজিবুর হক মনি প্রমুখ। আলোচকরা স্মরণ করেন যে একাত্তর আমাদের একটা রাষ্ট্র ও জাতীয় পরিচয় উপহার দিয়েছে, একটি সংবিধান উপহার দিয়েছে। একাত্তর মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রেরনা। আজকাল দেখা যায় বর্তমান প্রজন্ম বৈষয়িক সমৃদ্ধির জন্য প্রতিযোগিতা করে আর আমরা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিযোগিতা করেছিলাম মৃত্যুবরণ করার জন্য। সেই ঐতিহাসিক একাত্তরের নামানুষারে হৃদয়ে৭১ নামকরণ করার জন্য আলোচকরা উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানান। সে সাথে জাতির এই ক্রান্তি কালে হৃদয়ে৭১-এর কার্যক্রমকে প্রয়োজনীয় আখ্যায়িত করে এর প্রশংসা সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই সম্প্রচারে হলে ক্যামেরায় ছিলেন মোঃ ঈশা খান রাশেদ এবং সার্বিক কারিগরি সহযোগিতা ও সম্প্রচারে ছিলেন ওমর আলী।
দ্বিতীয় অংশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শাহাব বাচ্চুর প্রযোজনায় এবং শতরুপা ও ড. হাসনীন চৌধুরীর উপস্থাপনায় দেশাত্ববোধক, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ও বিপ্লবী গান, শ্রুতি নাটক, নাচ ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়। এসব পরিবেশনায় ছিলেন ডাঃ ইমতিয়াজ আহমদের পরিচালনায় আনন্দধারার শিল্পী এনি, আর্থিকা, বৃষ্টি, লোপা, সিদ্দিকা, পলিন, রিঙ্কু, জাহানারা, আইরিন, দূর্গা সাহা, অরূপ, অনুপম, কৃষ্ণ সাহা, সাকলাইন ও তারিফ; গৌরী চৌধুরীর পরিচালনায় সুরালয়ের শিল্পী রত্ন দে, স্নিগ্ধা, মোহনা, শ্রেয়সী, পারমিরা ও ইভা; উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, যুক্তরাজ্য শাখা ও সত্যেন সেন পারফরমিং আর্টসের শেখ নূরুল ইসলামের পরিচালনায় অসীমা দে, জলি ধর, জুবা, সূপর্ণা, নাবিলা, মাধবী, মহিম তালুকদার, মতিউর তাজ ও শামসুদ্দিন;
এবং নৃত্য পরিবেশন করে শিশু শিল্পী রদ্রিতা, তিয়না, পিউ, দিয়া, সুনীলা ও জারা। এ ছাড়াও আবৃত্তিতে ছিলেন বাচিক শিল্পী মুনিরা পারভীন ও সঙ্গীতে স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী হিমাংশু গোস্বামী। যন্ত্র সঙ্গীতে ছিলেন প্রিতম (কী বোর্ড), বাঁধন (তবলা) ও তানিম (অক্টোপ্যাড)। শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন স্বপন। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের জনগোষ্ঠির এবং বিভিন্ন গ্রুপের সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সম্মিলনে এক অনন্য সাধারণ ও বিরাটকায় কমিউনিটি মিলন মেলায় পরিণত হয়। হৃদয়ে৭১-এর সংগঠকরা তাদের প্রতি কমিউনিটির অব্যাহত সমর্থনের জন্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির পরিবেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আমাদের কমিউনিটিকে ভবিষ্যতে আরো ঘনিষ্ঠ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি



















