img

ভয় নয়, আস্থা রাখুন: শেয়ারবাজারের সম্ভাবনার নতুন ভোর—১৫ জুন ২০২৫!

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ১২ জুন ২০২৫

ভয় নয়, আস্থা রাখুন: শেয়ারবাজারের সম্ভাবনার নতুন ভোর—১৫ জুন ২০২৫!

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার চলেছে তার স্বাভাবিক চক্রে—কখনো অগ্রগতির পথে, আবার কখনো সংশোধনের ধাক্কায়। সাম্প্রতিক কিছু পতনের প্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যেমন উদ্বেগ বেড়েছে, তেমনি বাড়ছে বিভ্রান্তিও। কেউ আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন, আবার কেউ নীরবে অপেক্ষা করছেন সঠিক সুযোগের। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যাঁরা ধৈর্য ধরেছেন, সফলতা তাদের হাতেই এসেছে।

১৫ জুন ২০২৫—এটি কেবল আরেকটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, বরং হতে পারে সম্ভাবনার এক নতুন ভোর। এই দিন হোক আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের প্রতীক—বিশ্লেষণ ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন নির্দেশনা।

পতন মানেই ধ্বংস নয়—সেখানে লুকিয়ে থাকে শিক্ষা

সাম্প্রতিক বাজার পতনে অনেক বিনিয়োগকারীর মনে প্রশ্ন জেগেছে—\"এখন কি বিনিয়োগের সঠিক সময়?\", \"আমার পুঁজি কি ঝুঁকির মুখে?\" এসব প্রশ্ন যুক্তিযুক্ত, কিন্তু ইতিহাস আমাদের শেখায়—প্রত্যেক পতনের পরেই আসে পুনরুত্থান।

গত পাঁচ বছরে আমরা যা দেখেছি:

২০২০: মহামারির ধাক্কায় ব্যাপক পতন,

২০২১: শক্তিশালী পুনরুদ্ধার,

২০২৩-২৪: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে অস্থিরতা,

২০২৫: একটি স্বাভাবিক সংশোধন। 

এই ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে যে, বাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক—এটাই তার প্রকৃতি।

কেন আস্থা রাখা জরুরি?

১. আন্তর্জাতিক আগ্রহের পুনরায় আগমন:

নতুন সরকারের উদ্যোগে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইন সংস্কার শুরু হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও ধীরে ধীরে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

২. মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শক্ত অবস্থান:

স্কয়ার ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, এশিয়ান পেইন্টস, বিএসআরএমসহ শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর মুনাফা স্থিতিশীল। শেয়ারদর সাময়িকভাবে কমলেও, মৌলভিত্তি বলছে—ঘুরে দাঁড়ানো কেবল সময়ের ব্যাপার।

৩. বিনিয়োগবান্ধব বাজেট:

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক। কর ছাড়, প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা বাজারে আস্থা বাড়াচ্ছে।

১৫ জুন—এক নতুন সম্ভাবনার দরজা

১৫ জুন ২০২৫—এই দিনটিকে কেবল একটি তারিখ হিসেবে না দেখে ভাবতে হবে বিনিয়োগের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে। যাঁরা এই মুহূর্তে ভয়কে পরাস্ত করতে পারবেন, তাঁরাই রচনা করবেন আগামী দিনের পোর্টফোলিও সাফল্যের কাহিনি।

পতনের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে পাঁচটি সম্ভাবনা:

১. মূল্যবান শেয়ার এখন ডিসকাউন্টে:

উন্নত মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ার বর্তমানে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে—যা স্মার্ট বিনিয়োগকারীর কাছে ‘বাজারে ছাড়’ পাওয়ার মতোই।

২. উচ্চ ডিভিডেন্ডের সম্ভাবনা:

কম দামে কেনা শেয়ারে ডিভিডেন্ডের অনুপাত বেশি হয়—এটি হতে পারে একটি নীরব প্যাসিভ আয়ের উৎস।

৩. দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির ভিত রচনার সুযোগ:

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মোড়ে দাঁড়িয়ে। ব্যাংকিং, নির্মাণ ও শিল্প খাত আগামী বছরগুলোতে উন্নত হবে—এখনকার বিনিয়োগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

৪. নতুন আইপিও আসার প্রস্তুতি:

সরকারি ও বেসরকারি লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতিতে রয়েছে—যা বাজারে নতুন গতি আনবে।

৫. নীতিগত সহায়তা বাড়ছে:

অর্থনৈতিক উপদেষ্টাদের সুপরিকল্পিত দিকনির্দেশনা ইতোমধ্যেই বাজারে স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।

বিনিয়োগের মূল মন্ত্র—ধৈর্য ও বিচক্ষণতা

বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ গুরু ওয়ারেন বাফেট বলেছেন:

“Be fearful when others are greedy, and be greedy when others are fearful.”

অর্থাৎ, যখন সবার মনে ভয়—তখনই বিচক্ষণ বিনিয়োগকারীর জন্য সুবর্ণ সুযোগ আসে। গুজব নয়, বিশ্লেষণ হোক আপনার সিদ্ধান্তের ভিত্তি।

কী করবেন এখন?

বাজার পর্যবেক্ষণ করুন, বিশ্লেষণ করুন,

মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করুন,

ছোট ছোট করে নিয়মিত বিনিয়োগ করুন (Dollar Cost Averaging),

ঝুঁকি সহনশীলতা অনুযায়ী পোর্টফোলিও সাজান,

খাতভিত্তিক বৈচিত্র্য আনুন—এক ঝুড়িতে সব ডিম না রাখুন,

সর্বোপরি—ধৈর্য ধরুন।

আজকের স্থিরতা—আগামীর সাফল্য

অনেকেই সাময়িক পতনে হতাশ হন। কিন্তু প্রকৃত বিনিয়োগকারীর পরিচয় হয় এই সময়েই। যাঁরা এখন শেয়ার বিক্রি করে চলে যাচ্ছেন, দীর্ঘমেয়াদে তারাই বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। আবার, যাঁরা বিশ্লেষণ করে আস্থা রেখে এগোচ্ছেন—তাঁরাই গড়ে তুলছেন ভবিষ্যতের আর্থিক ভিত্তি।

১৫ জুন ২০২৫ হতে পারে আপনার বিনিয়োগ যাত্রার মোড় ঘোরানোর দিন। মনে রাখুন—অন্ধকার যত গভীর হয়, সূর্যোদয় ততই নিকটবর্তী হয়।

এই মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন—ভয় নয়, আস্থা হোক আপনার প্রধান পুঁজি।

আজকের আত্মবিশ্বাসই গড়ে তুলবে আগামীর নিরাপদ আর্থিক ভবিষ্যৎ।


img

বিএনপির সময়ে শেয়ারবাজার লুটের সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৯:৩৬, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী  আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, বিএনপি সরকারের কোনো সময়ে শেয়ারবাজার লুটপাটের কোনো সুযোগ ছিল না, এবারও থাকবে না। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকারের সময় শেয়ার বাজার লুটপাটের কোনো সুযোগ ছিল না, ইনশাল্লাহ এবারও থাকবে না নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।’

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ অধিকতর সংশোধনের জন্য [বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬] বিশেষ কমিটির সুপারিশ বিবেচনার প্রস্তাব দেন। 

তবে এই বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

শেয়ারবাজার লুটপাটে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী করতে যে কটি স্তম্ভ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তার অন্যতম একটি হচ্ছে পুঁজিবাজার।’

তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্বে যেসব দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ ও প্রতিযোগিতামূলক, তাদের শক্তির অন্যতম উৎস শেয়ারবাজার। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ১৯৯৬ সালে একবার ও ২০১০ সালে একবার ভয়াবহ রকম পতনের শিকার হয়।’

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রকাশিত শ্বেতপত্রের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে শেয়ারবাজার থেকে লুট হয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। এই ১ লাখ কোটি টাকা, সাধারণ মানুষের টাকা। যে মানুষগুলো তাদের সমস্ত সঞ্চয়গুলো হয়তো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন—সেই মানুষগুলোর টাকা। এগুলো লুটপাট করা হয়েছে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মাধ্যমে। বিশেষ কিছু ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। যাদের কখনোই বিচারের আওতায় আনা হয় নাই।’

দেশের অর্থনীতি নানা সমস্যার মুখে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সার্বিক পরিস্থিতিতে আমি আমি আশা করব, অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের যেমন জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন, একইসঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে দক্ষ ও যোগ্য মানুষের সম্মিলন ঘটিয়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে আবারও একটি আস্থার জায়গায় নিয়ে যাবেন।’

জবাবে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু বিশেষ কমিটি এই বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে, তারপর বিলটি এখানে এসেছে। সুতরাং আর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেওয়ার দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।’