img

বানিয়াচংয়ে এসআই সন্তোষ হত্যা: পুলিশের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্মারকলিপি

প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ২৯ জুলাই ২০২৫

 বানিয়াচংয়ে এসআই সন্তোষ হত্যা: পুলিশের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্মারকলিপি

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি উঠেছে। মামলা দায়েরের প্রায় একবছর পর এমন দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের বানিয়াচং থানায় এসআই সন্তোষকে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। এরপর তার লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।  এরআগে উত্তেজিত জনতাকে লক্ষ্য পুলিশের গুলিতে ওই এলাকায় ৯ জন নিহত হন। এসময় জনতাকে লক্ষ্য করে এসআই সন্তোষ গুলি ছুঁড়েন বলে স্থানীয় অনেকের অভিযোগ।

সন্তোষ নিহতের ঘটনায় গত বছর আগস্টেই পুলিশ বাদী হয়ে ১০ হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

রোববার হবিগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান স্বাক্ষরিত এ স্মারকলিপিটি সংগঠনের আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মুহাম্মদ আবদুল্যাহ আল জাবেদের কাছে প্রদান করেন।

মাহদী হাসান বলেন, আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। আন্দোলনটি ছিল দেশের আপামর জনতার। এ আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বানিয়াচংয়ে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের এসআই সন্তোষ বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়ে ৯ ছাত্র-জনতাকে শহীদ করেছিলেন। তখন হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়েন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি পরবর্তীতে ঐতিহাসিক এ ক্ষোভকে হত্যাকাণ্ড বলে ১০ হাজার অজ্ঞাত ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ হয়রানিমূলক ও বানোয়াট মামলা বলে আমরা মনে করছি। এছাড়া মামলাটি ইতিহাস বিকৃতি ও জনগণের প্রতিবাদ দমনের অপচেষ্টা। তাই অবিলম্বে মামলাটি স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের জন্য আমরা দাবি জানাই।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এসআই সন্তোষের গুলিতে নিরীহ মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হলে উত্তাল হয়ে উঠে বানিয়াচং। সাধারণ মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তবে সেই প্রতিরোধকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে তুলে ধরে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ‘অজ্ঞাত’ ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়; যা ইতিহাস বিকৃতি ও নিপীড়নের অপচেষ্টা।

এতে আরও বলা হয়, এসআই হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার, নিহত ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসন, ন্যায্য প্রতিবাদকে সন্ত্রাস বা হত্যাকাণ্ড বলা সরকারি অপপ্রয়াস।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ২ কোটিরও অধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ ও ফুচকা জব্দ

প্রকাশিত :  ১৯:৩৪, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ কোটি ২০ হাজার টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষধ ও ফুচকা জব্দ করেছে।

আজ (২১ এপ্রিল) দুপুরে বিজিবির হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর একটি চৌকস আভিযানিকদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাধবপুর উপজেলাধীন মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।  আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে একটি সন্দেহভাজন ট্রাক আসতে দেখে বিজিবি সদস্যরা সংকেত দিয়ে ট্রাকটি থামায়। পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি করে দেখা যায় যে, ট্রাকটিতে বহনকৃত ইটের নিচে বস্তার ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ঔষধ এবং ফুচকা লুকানো রয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত এসব অবৈধ পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালের সিজারমূল্য আনুমানিক ২ কোটি ২০ হাজার টাকা। 

জব্দকৃত ভারতীয় ওষুধ ও ফুচকাগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কাস্টমস অফিসে হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ তানজিলুর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনে বিজিবির কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশীয় ওষুধ শিল্প রক্ষা এবং  অর্থনীতিকে সুসংহত রাখা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

সিলেটের খবর এর আরও খবর